ঢাকা, ২৬ মে-২০২৫
ওয়াহিদ মুরাদ, (বিভাগীয় ব্যুরো চীফ) : খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আতাই নদী ভাংগনে ৮/১০টি বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। দু’গ্রামের দেড় শতাধিক পরিবার রয়েছে ঝুঁকির সম্মুখিন। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন শতাধিক পরিবার। উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের আলালগাতী ও ডোমরা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত আতাই নদীর পাশে প্রায় দেড় থেকে দু’শতাধিক পরিবারের বসবাস।
সল্প আয়ের পরিবারগুলো কৃষি আবাদসহ ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দিনে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে রাতে নদী ভাঙ্গনের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের। ইতিমধ্যে গোলক অধিকারী, শৈলেন বিশ্বাস, মিনতী বিশ্বাস, মহিদুল কাজীসহ ৮/১০টি পরিবারের বসতবাড়ি আতাই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

নদী ভাঙ্গনের সংবাদ জেনে গতকাল ২৫ মে (রবিবার) বিকেলে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম ছুটে যান গাজীরহাট ইউনিয়নের আবালগাঁতি গ্রামের নদীভাঙ্গন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে। পরিদর্শন কালে তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন, গাজিরহাট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সোহাগ মুন্সি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকবৃন্দ।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে নৌকায় করে এবং পায়ে হেঁটে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে, নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের সঙ্গে এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বিশদ আলোচনা করেন। এ সময় তিনি নদী ভাঙ্গানে ক্ষতিগ্রস্তদের দুঃখ কষ্টের কথা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৃষ্ট এই দুর্যোগে সবাইকে ধৈর্যধারণ করতে হবে। উপজেলা প্রশাসন সর্বদাই আপনাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।’
আলোচনা কালে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে শৈলেন বিশ্বাস বলেন, আতাই নদী কূলে আমাদের বসবাস। হঠাৎ করে আতাই নদী ভাঙ্গনে আমার বসতবাড়িসহ শষ্যক্ষেত ফলজ ও বনজ বৃক্ষ এবং পানের বরজ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে যেখানে বসবাস করছি এটুকুও যেকোনো সময় নদীতে ভেঙ্গে যেতে পারে। নদী তীরে বসবাসকারী বিধান বিশ্বাসের স্ত্রী মিতা বিশ্বাস বলেন, এখানে আমাদের বসতবাড়িসহ ৬টি পরিবার নদীগর্ভে চলে গেছে। নদীতে ভেসে যাওয়া পরিবার গুলো অন্যত্র গিয়ে বসতি স্থাপন করছেন। আমাদের অন্যত্র গিয়ে বসতিস্থাপনের কোন যায়গা জমি নেই। তাই এই নদীর পাড়ে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে আমরা এখানে বসবাস করছি। প্রতি রাতেই আমরা ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রাত্রি যাপন করি। সব সময় মনে হয় এই বুঝি সর্বনাশা আতাই নদী ঘরবাড়িসহ আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা এখন কোথায় যাবো? স্বামী, শ্বশুর যৌথভাবে এবাড়িতেই বসবাস করি এবং লোহা থেকে পেরেক তৈরি করি।পেরেক বিক্রি করে সামান্য আয়ে আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। কোনো রকমের মোটা ভাত ও মোটা কাপড়ে সংসার চালাই। এই সামান্য উপার্জনে মোটামুটিভাবে সংসার চললেও নতুন করে অন্য কোথাও বসতি স্থাপন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
গাজীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সোহাগ মুন্সী জানান, আবালগাতী গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বসতবাড়ি, ফসলিজমি হারিয়ে দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের এখন মাথা গোজার ঠাঁই নেই বাড়ি ঘর বানানোর জমি নেই। এ অবস্থায় তারা অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করছেন।
সবশেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলিকে আস্বস্ত করে বলেন, ‘আপনাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে যা কিছু করা সম্ভব তার সবকিছু খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যাবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ


