ঢাকা, ১৭ আগস্ট-২০২৬
ওয়াহিদ মুরাদ, (খুলনা ব্যুরো চীফ) : ‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনার দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিন উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে র্যালি, বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, আলোচনা সভা এবং সফল মৎস্যচাষিদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। ১৭ আগস্ট (সোমবার) বিকালে উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কর্মসূচির শুরুতে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উন্মুক্ত জলাশয় রক্ষার বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরা হয়। পরে উপজেলা মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দিঘলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিয়াজউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ১০২ খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী (হেলাল)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস কে আজিজুল বারী হেলাল দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, মাছের প্রজনন মৌসুমে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ এবং মৎস্য সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের উন্মুক্ত জলাশয়গুলো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে নিজেদের দখলে নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব জলাশয় সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে, যাতে জনগণ এর সুফল ভোগ করতে পারে এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন স্বাভাবিক থাকে। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও পুষ্টি নিরাপত্তায় মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। মৎস্যসম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব মাছ চাষের প্রসার ঘটাতে হবে। এর মাধ্যমে মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও উৎপাদনমুখী করার পাশাপাশি চাষিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা সম্ভব।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস মাছ। একই সঙ্গে মৎস্য খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। তাই জলাশয় দখল, অবৈধ জাল ব্যবহার, প্রজনন মৌসুমে মাছ শিকার এবং জলজ পরিবেশের ক্ষতি বন্ধে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু, দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুর রহমান মিন্টু, আব্দুর রকিব মল্লিক, শরীফ ইকবাল হোসেন, শরীফ মোজাম্মেল হোসেন, মোল্লা বেল্লাল হোসেন, গাজী জাকির হোসেন, শেখ মোসলেম উদ্দিন, খন্দকার ফারুক হোসেন, শেখ আবুল কালাম আজাদ, মো. মুকিত মীর, জাসেদ কবির জুয়েল, শাফি উদ্দিন সাফি, শেখ লিটন, আব্দুল্লাহ আল নিপু, আলম চৌধুরী, বাদশা গাজী, শেখ কুদরতে-ই-এলাহী স্পিকার, আব্দুল কাদের জনি, মো. সিদ্দিকুর রহমান মিন্টু, রিনা পারভিন, মোহাম্মদ আলী টুটুল, সৈয়দ মোজাফফর হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধা খাঁ বাবলী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম, উপজেলা প্রকৌশলী আবু তারেক সাইফুল কামাল, দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুমসহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সফল মৎস্যচাষিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। সেরা গলদা চাষি হিসেবে হাসিবুর রহমান সুইট, সেরা কাপ জাতীয় মৎস্যচাষি হিসেবে আলম চৌধুরী এবং সেরা মৎস্য উদ্যোক্তা হিসেবে অপূর্ব দাসকে সম্মাননা দেওয়া হয়। আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়। মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জলাশয়ে নিয়মিত পোনা অবমুক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন একদিকে যেমন সফল মৎস্যচাষিদের উৎসাহিত করবে, অন্যদিকে দেশীয় মাছ সংরক্ষণ, উন্মুক্ত জলাশয়ের সুরক্ষা এবং মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াবে। তাদের মতে, দিঘলিয়ার নদী, খাল, বিল ও অন্যান্য জলাশয়ের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মৎস্যচাষিদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। ফলে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব মৎস্যচাষের মাধ্যমে দিঘলিয়ার মৎস্য খাতকে আরও আধুনিক, উৎপাদনশীল ও টেকসই করা সম্ভব হবে।
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ


