ঢাকা, ০২ সেপ্টেম্বর-২০২৬
ওয়াহিদ মুরাদ, (খুলনা ব্যুরো চীফ) : খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত একদিনে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন আরও ৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছর উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩১ জনে।
দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে গত আট মাসে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ১৩১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১৫ জন। ০১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) পর্যন্ত হাসপাতালে ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছর দিঘলিয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গুর সংক্রমণও বাড়ছে। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই ডেঙ্গু সন্দেহে রোগীদের ভিড় বাড়ছে।
দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুল আলম বলেন, দিঘলিয়া উপজেলায় এবারই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত একদিনে নতুন করে ৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে চিকিৎসার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, জমে থাকা পানি মশার প্রজননের অন্যতম অনুকূল পরিবেশ। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা যেকোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে মশার বংশবিস্তার ঘটতে পারে। তাই নিয়মিতভাবে এসব স্থান পরিষ্কার করা এবং জমে থাকা পানি অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
দিঘলিয়ায় একদিকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে হাসপাতালেও বাড়ছে রোগীর চাপ। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ


