ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর-২০২৬
ওয়াহিদ মুরাদ, (খুলনা ব্যুরো চীফ) : খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। গত ১৪ দিনেই উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৭ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দিঘলিয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০২ জন। বর্তমানে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর শুরু থেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে গত দুই সপ্তাহে ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা ও প্লাটিলেট পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইনসহ অন্যান্য চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখছেন।
দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। জ্বর বা ডেঙ্গুর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা যেকোনো পাত্রে পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। নিজেদের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে এডিস মশার বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও গিঁটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত দুর্বলতা এবং কখনো শরীরে লালচে দাগ দেখা দেওয়া। এসব উপসর্গ দেখা দিলে সাধারণ জ্বর মনে করে বাড়িতে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসায় সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করা, পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না; পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জ্বর হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সময়মতো শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করলে ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ


