সাংবাদিক মামুন রেজা চলে গেলেন না ফেরার দেশে, তার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয় : রকিবুল ইসলাম মতি
ব্যুরো প্রধান, এস এ টিভি, খুলনা।
ঢাকা, ২২ জুন-২০২৫
বিশেষ প্রতিবেদন : খুলনার সাংবাদিকতা জগতে মামুন রেজা ছিলেন এক সুপরিচিত, প্রাণবন্ত এবং সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ। চ্যানেল ২৪-ও দৈনিক সমকালের খুলনা ব্যুরো প্রধান হিসেবে তিনি ছিলেন নগরীর প্রতিটি ঘটনাপ্রবাহের একনিষ্ঠ সাক্ষী। তাঁর কর্মচঞ্চল পদচারণা আর ক্যামেরার সামনে ও পেছনের অক্লান্ত পরিশ্রম খুলনার গণমাধ্যমকে দিয়েছিল এক নতুন মাত্রা। কিন্তু এক আকস্মিক হৃদরোগের ঝড়ে সব থামিয়ে দিয়ে তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে, যা খুলনার সাংবাদিক সমাজ তথা পুরো অঞ্চলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
কর্মজীবন : একনিষ্ঠ এক সংবাদকর্মীর প্রতিচ্ছবি।মামুন রেজা তাঁর সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেছিলেন নিষ্ঠা ও সততাকে পুঁজি করে। সময়ের পরিক্রমায় তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল ২৪’ ও দৈনিক সমকালের খুলনা ব্যুরো প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেন। এর আগে তিনি খুলনার ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় পত্রিকাতে দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন।তাঁর প্রতিবেদনের মূল ক্ষেত্র ছিল খুলনার উন্নয়ন, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং সুন্দরবন অঞ্চলের পরিবেশগত নানা বিষয়। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, জলদস্যুতার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন কিংবা খুলনার নাগরিক সমস্যা-সবকিছুতেই তাঁর সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মামুন রেজা কেবল একজন সংবাদ সংগ্রাহক ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব। সহকর্মী, নবীন সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন এক আস্থার নাম। তাঁর পেশাদারিত্ব এবং অমায়িক ব্যবহার তাঁকে সবার প্রিয় করে তুলেছিল।
শেষ দিন ও আকস্মিক মহাপ্রয়াণ : মৃত্যুর দিনটিতেও মামুন রেজা ছিলেন তাঁর পেশাগত দায়িত্বে অবিচল। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে তিনি যখন বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন,তখনই হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন, কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, তীব্র হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই আকস্মিক এবং অপ্রত্যাশিত মৃত্যু সংবাদ মুহূর্তেই খুলনা শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাংবাদিক সমাজসহ সকল মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। যে মানুষটি সারাদিন সংবাদের পেছনে ছুটে বেড়িয়েছেন, তিনিই নিথর দেহে পরিণত হলেন-এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো এক ঘটনা।মামুন রেজার অকাল প্রয়াণ খুলনা অঞ্চলের গণমাধ্যমে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে। তিনি ছিলেন একাধারে একজন নির্ভীক সাংবাদিক এবং মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ। তাঁর কাজের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন। মামুন রেজা হয়তো শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর কাজ, তাঁর সততা এবং তাঁর অমায়িক ব্যবহার সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে চির অম্লান হয়ে থাকবে। খুলনার সাংবাদিকতার ইতিহাসে তিনি একজন কর্মচঞ্চল ও নিবেদিতপ্রাণ সংবাদকর্মী হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

নির্ভরতার ঠিকানা : যখনই কোনো ভিডিও ফুটেজের জন্য আটকে যেতাম, প্রথম যার কথা মনে পড়ত, তিনি হলেন মামুন ভাই। ফোন করলেই বলতেন, “অফিসে চলে আসেন নাকি মেইলে দিয়ে দিব।” সেই ভরসার জায়গাটা আজ হারিয়ে গেল।
চিরচেনা হাসি : তাঁর সেই অমায়িক হাসিটা চোখে ভাসছে। শত চাপেও তিনি হাসিমুখে থাকতেন। সেই হাসি একদিকে যেমন আমাদের সাহস জোগাত, অন্যদিকে তাঁর ব্যক্তিত্বকে অনন্য করে তুলত।
আপসহীন সাংবাদিকতা : সত্য প্রকাশে তিনি ছিলেন নির্ভীক। কোনো ভয় বা প্রলোভন তাঁকে দমাতে পারত না। তাঁর কাছ থেকেই শিখেছি, সাংবাদিকের আসল শক্তি হলো তার সততা।
মানবিক গুণাবলি : তিনি শুধু বড় সাংবাদিক ছিলেন না, ছিলেন একজন বড় মনের মানুষ। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, সহকর্মীদের খোঁজখবর রাখা-এই মানবিক গুণগুলোই তাঁকে সবার থেকে আলাদা করেছিল।
ওপারে ভালো থাকবেন, মামুন ভাই। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আপনার পরিবারের প্রতি রইল গভীর সমবেদনা।

Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ



মামুন রেজার মৃত্যু খুলনার সাংবাদিকতা জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠা গণমাধ্যমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। তিনি শুধু একজন সাংবাদিকই ছিলেন না, বরং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরও হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর স্মৃতি সহকর্মী ও পাঠকদের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান থাকবে। মামুন রেজার মতো নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকের অনুপস্থিতি কীভাবে পূরণ করা সম্ভব? WordAiApi