ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর-২০২৬
ওয়াহিদ মুরাদ, (খুলনা ব্যুরো চীফ) : খুলনার ভৈরব নদীতে ট্রলার ও ফেরির সংঘর্ষে নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর রাকিব খান (২৮) নামে এক যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে রূপসা নৌ পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নিতে ০৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দিঘলিয়া উপজেলার হাজীগ্রামে যান খুলনা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ হুরে জান্নাত। এ সময় তিনি নিহত রাকিবের মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাশ গুপ্ত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদসহ জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। নিহত রাকিব খান দিঘলিয়া উপজেলার হাজীগ্রামের মৃত বাকের খানের ছেলে। তিনি গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে ভৈরব নদীতে ট্রলার ও ফেরির সংঘর্ষের পর নিখোঁজ হন।
নৌ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার জেলখানা ঘাট থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার রূপসার সেনের বাজার ফেরিঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ট্রলারটি মাঝনদীতে পৌঁছালে একটি ফেরির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর অন্যান্য যাত্রীদের অধিকাংশকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রাকিব খান নিখোঁজ থাকেন। দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চালালেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
অবশেষে দুর্ঘটনার সাত দিন পর ০৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাতে বটিয়াঘাটা উপজেলার ভান্ডারকোট ইউনিয়নের শিয়ালীডাঙ্গা এলাকা সংলগ্ন পশুর নদীর পূর্বপাড় থেকে ভাসমান অবস্থায় রাকিব খানের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে রূপসা নৌ পুলিশ। মরদেহের পরনে থাকা পোশাক দেখে তাঁর মামা কামরুল ইসলাম পরিচয় নিশ্চিত করেন।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় সুরতহাল ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান শনাক্তে সংশ্লিষ্টদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর রাকিবের মরদেহ তাঁর নানা বাড়ি দিঘলিয়া উপজেলার হাজীগ্রাম মোল্লাপাড়ায় নিয়ে আসা হয়। বুধবার বিকেলে হাজীগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আসরের নামাজের পর তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে হাজীগ্রাম কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
তরুণ রাকিবের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে জানাজার পরিবেশ। এলাকাবাসীও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এদিকে জেলা প্রশাসকের নিহতের পরিবারের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া এবং তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করায় পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ


