ঢাকা, ০৯ অক্টোবর-২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদন : ইসলাম ধর্মে সপ্তাহের প্রতিটি দিনের মধ্যে জুম্মার দিন (শুক্রবার) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময়। এই দিনটিকে ‘ইয়াউমুল জুমা’ বা জুমার দিন বলা হয়। মুসলিম উম্মাহর কাছে এটি একটি সাপ্তাহিক উৎসবের দিন। জুমার নামাজের বিশেষ গুরুত্ব এবং এই দিনের ফজিলত কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ! জুম্মার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পারো।’ (সূরা জুমুআ, আয়াত: ৯)।
জুমার দিন কেবল ইবাদত-বন্দেগির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর একটি বিশাল সামাজিক ও সামষ্টিক গুরুত্ব রয়েছে। ইসলামের সামাজিক বুনিয়াদকে সুদৃঢ় করতে জুমার দিন অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে।
সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গঠন : জুম্মার নামাজ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এক কাতারে শামিল করে। ধনী-দরিদ্র, শাসক-শাসিত, কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ—সব ভেদাভেদ ভুলে মুসলমানরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেজদায় অবনত হন। এই সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ অহংকার দূর করে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে। নামাজের পর একে অপরের কুশল বিনিময় করার মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
খুতবার মাধ্যমে গণসচেতনতা ও নির্দেশনা : জুম্মার নামাজের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো ‘খুতবা’। খুতবা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি সমসাময়িক সামাজিক, নৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ের দিকনির্দেশনা। খতিব সাহেবরা যদি খুতবায় সমকালীন সামাজিক ব্যাধি যেমন—মাদকাসক্তি, দুর্নীতি, সুদ-ঘুষ, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং এবং পরিবেশ দূষণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কুরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনা করেন, তবে তা জনসচেতনতা তৈরিতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।
আত্মশুদ্ধি ও সাপ্তাহিক পর্যালোচনা : ব্যস্ত জীবনের যান্ত্রিকতায় মানুষ যখন আধ্যাত্মিক দিক থেকে ঝিমিয়ে পড়ে, তখন জুম্মার দিনটি তাকে পুনরুজ্জীবিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক জুমা থেকে অন্য জুমা মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের জন্য কাফফারা স্বরূপ, যদি কবিরা গুনাহ না করা হয়।’ (সহীহ মুসলিম)। এটি একজন বিশ্বাসীকে তার বিগত সপ্তাহের ভুলত্রুটি পর্যালোচনা করার এবং আগামী সপ্তাহের জন্য নিজেকে শুধরে নেওয়ার একটি চমৎকার সুযোগ তৈরি করে দেয়।
শৃঙ্খলার শিক্ষা : জুম্মার নামাজে মুসলমানরা ইমামের একক নেতৃত্বে কাতার সোজা করে দাঁড়ান এবং ইমামের প্রতিটি রুকুর অনুসরণ করেন। এই আমলটি মুসলিম সমাজকে নেতার আনুগত্য ও নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দেয়। কাতার সোজা করার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনের একটি বাস্তব মহড়া সম্পন্ন হয়।
জুম্মার দিনের বিশেষ কিছু আমল : ইসলামি স্কলারদের মতে, জুমার দিনটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা, সুরা আল-কাহফ তিলাওয়াত করা এবং জুমার খুতবার পূর্বে মসজিদে আগে আগে উপস্থিত হওয়ার জন্য সর্বোত্তম। এছাড়া জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, যখন বান্দার বৈধ দোয়া মহান আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না।
পরিশেষে বলা যায়, জুম্মার নামাজ কেবল একটি সাপ্তাহিক ইবাদত নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল, অহংকারমুক্ত এবং সম্প্রীতিময় সমাজ বিনির্মাণের মহাসম্মেলন। বর্তমান অশান্ত ও অস্থির পৃথিবীতে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিতে জুমার এই অন্তর্নিহিত শিক্ষাকে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ফুটিয়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে জুম্মার দিনের সঠিক তাৎপর্য অনুধাবন করে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
Related News :

নিবন্ধন-ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া সড়কে কোন ই-রিক্সা চলবে না : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

বাংলা কিউআরভিত্তিক ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেন সেবা চালু

ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২,২১৮

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক-২০২৭ : আবেদন পাঠানোর সময়সীমা বাড়ল

নিরাপত্তাঝুঁকিতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

অবৈধ মোবাইল ফোনে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে চালু হচ্ছে এনইআইআর

প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা

সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৭ দিন বন্ধ থাকবে অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রমে গতি আনতে চেয়ারম্যানের নির্দেশনা বাস্তবায়নের তাগিদ


