দিঘলিয়ায় শৈত্যপ্রবাহের দাপট : শীতে কাবু শিশু-বৃদ্ধ, হাসপাতালজুড়ে ঠান্ডাজনিত রোগীর ভিড়
ঢাকা, ২৬ ডিসেম্বর-২০২৫
ওয়াহিদ মুরাদ, (খুলনা ব্যুরো চীফ) : শিল্প নগরী হিসেবে পরিচিত খুলনা শহরের কোলঘেঁষা দিঘলিয়া উপজেলা বর্তমানে চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে। এ উপজেলার অধিকাংশ শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে এই এলাকার বৃহৎ জনগোষ্ঠী। তার ওপর শৈত্যপ্রবাহ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস আর কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, ইজিবাইক চালক, ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল মানুষ। শীতের প্রভাবে কাজ কমে যাওয়ায় অনেক পরিবারেই চুলায় আগুন জ্বলছে না, পাশাপাশি শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অসংখ্য শিশু ও বৃদ্ধ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ঠান্ডা কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন বয়স্করা। ফলে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর চাপ : দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড়। অনেক মা কোলে অসুস্থ শিশুকে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজির হয়েছেন চিকিৎসার জন্য। চিকিৎসকরা জানান, প্রতিদিন আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি শিশু ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসছে। হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, ‘শীত বেড়ে যাওয়ার কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। গরম কাপড় ও পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।’
দিনমজুর, ইজিবাইক চালক ও ভ্যানচালকদের করুণ বাস্তবতা : শীতের দাপটে কাজ হারিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন ভ্যানচালক, ইজিবাইক চালক ও দিনমজুররা। ভ্যানচালক আব্দুল আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘শীতে যাত্রী নেই, ইনকামও নেই। পেটে ভাত নেই, তার উপর শীতের যন্ত্রণা। ছেলে-মেয়েদের জন্য শীতের কাপড় কিনে দিতে পারিনি।’ একই কথা বলেন, ভ্যানচালক শহিদুল গাজী, আলফাজ ও মাসুম। হালকা শীতবস্ত্র গায়ে দিয়ে হিমেল বাতাসের মধ্যে যাত্রীর অপেক্ষায় বসে থাকা শহিদুলের চোখে পানি চলে আসে। তিনি বলেন, ‘ভ্যান না চালালে বাচ্চাদের না খেয়ে থাকতে হবে। শীতে আগের তুলনায় যাত্রীও কমে গেছে। এবছর কেউ একটা কম্বলও দেয়নি। মেয়েটা শীতে খুব কষ্ট পাচ্ছে।’ ইজিবাইক চালক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘শীতে ঘর থেকে মানুষ তেমন বের হচ্ছে না ফলে আমাদের আয় ও কম হচ্ছে। এদিকে বৃদ্ধ মায়ের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেছে, কিন্তু চিকিৎসার টাকাও নেই।’
শীতবস্ত্র বিতরণ না থাকায় বাড়ছে হতাশা : বিগত বছরগুলোতে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চোখে পড়লেও চলতি মৌসুমে দিঘলিয়ায় সেই দৃশ্য প্রায় অনুপস্থিত। ফলে শীতের প্রকোপে ছিন্নমূল মানুষ আরও অসহায় হয়ে পড়েছেন।
জরুরি সহায়তার আহ্বান : এই তীব্র শীতে দিঘলিয়ার ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শীতবস্ত্র, বিশেষ করে কম্বল ও গরম কাপড়। পাশাপাশি শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য বিনামূল্যে শীতজনিত রোগের চিকিৎসা, ওষুধ ও সচেতনতামূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। মানবিক সহায়তা ছাড়া এই শীত দিঘলিয়ার অসহায় মানুষের জন্য আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে-এমনটাই আশঙ্কা এখন উপজেলার সর্বত্র।
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ


