ঢাকা, ০৬ এপ্রিল-২০২৬
খুলনা ব্যুরো অফিস : খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি গ্রামে অবস্থিত আজিজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার মুহতামিম ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাতের অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন পরিদর্শন ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মাদ্রাসাটির উন্নয়নের জন্য ১ লাখ ৫১ হাজার ২৬০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বাস্তব চিত্রে সেই বরাদ্দের প্রতিফলন খুবই সীমিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের কাজ নামমাত্র করে অধিকাংশ অর্থই আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতেও স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে দিঘলিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জামাল হুসাইন জানান, বরাদ্দের সম্পূর্ণ অর্থ দুই কিস্তিতে মাদ্রাসার মুহতামিমের ব্যক্তিগত হিসাবে প্রদান করা হয়েছে। তবে মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ইন্তাজ উদ্দিন প্রথমে পুরো টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও পরবর্তীতে সাংবাদিকদের কাছে তিনি মাত্র ৫০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা জানান। তার বক্তব্যের এই অসামঞ্জস্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
মুহতামিম দাবি করেন, মাদ্রাসার তহবিল থেকে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে প্রায় ৭৩ হাজার টাকার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে যে কাজ করা হয়েছে, তাতে ৭০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হওয়ার কথা নয়। কাজের কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব, ভাউচার বা প্রকল্প কমিটির রেজুলেশনও দেখাতে পারেননি তিনি।
পরিদর্শনে দেখা গেছে, নির্মিত ঘরটিতে পুরনো ও মরিচাধরা টিন ব্যবহার করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ কাঠামোতেও মান বজায় রাখা হয়নি। এমনকি প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত কিছু উপকরণ স্থানীয়দের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এছাড়া, মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো লিখিত নিয়োগপত্র ছাড়াই ইচ্ছামতো শিক্ষক নিয়োগ ও অপসারণ করা হচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে, মাদ্রাসায় অর্ধশত ইয়াতিম শিক্ষার্থীর তালিকা দেখিয়ে উপজেলা সমাজসেবা দপ্তর থেকে নিয়মিত অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। তবে সরেজমিনে এমন কোনো ইয়াতিম শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। এমনকি নিয়মিত খাবার ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সমাজসেবা দপ্তরের এক কর্মকর্তার পরিদর্শনেও অনুরূপ অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।
এদিকে পিআইও মো. জামাল হুসাইন বলেন, বরাদ্দকৃত অর্থে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ


