ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর-২০২৬
ওয়াহিদ মুরাদ, (খুলনা ব্যুরো চীফ) : খুলনার দিঘলিয়ায় সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুই মিনিট দেরিতে বিদ্যালয়ে আসাকে কেন্দ্র করে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বেত দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মারধরের পর ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা। পরে তাকে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী ফরিদা পারভীন দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগে জানান, তার মেয়ে মাসুমা (১৫) সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকা অবস্থায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ২ মিনিটের দিকে সে বিদ্যালয়ে পৌঁছায়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, দুই মিনিট দেরি হওয়ায় শিক্ষক মো. জসীম ছাত্রীটিকে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে দেননি। পরে তাকে বিদ্যালয়ের অন্য একটি কক্ষে গিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম মহসিনের কাছ থেকে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের অনুমতি আনতে বলা হয়। এরপর ছাত্রীটি সিঁড়ি দিয়ে তৃতীয় তলায় গিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম মহসিনকে তার অসুস্থতার কথা জানিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের অনুমতি চায়। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় সহকারী প্রধান শিক্ষক তাকে বেতর লাঠি দিয়ে হাতে আঘাত করেন। এতে ছাত্রীটি অসুস্থ হয়ে একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত বিদ্যালয়ে ছুটে যান। পরে অসুস্থ ছাত্রীকে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা দেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী ফরিদা পারভীন আরও দাবি করেন, এর আগেও প্রায় দুই মাস আগে একই শিক্ষক তার মেয়েকে একইভাবে মারধর করেছিলেন।
শিক্ষকের স্বীকারোক্তি : অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম মহসিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি ওই ছাত্রীসহ পাঁচজন ছাত্রীকে বেতের লাঠি দিয়ে দুইটি করে আঘাত করেছি। কিন্তু এতে সে অসুস্থ হবে, তা আমি বুঝতে পারিনি। অপরদিকে ওই মেয়েটি এমনিতেই অসুস্থ ছিল।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘মেয়েটি এমনিতেই অসুস্থ ছিল। তবে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম মহসিন বেত দিয়ে আঘাত করেছেন, এটা সত্য। মেয়েটিকে আমি নিজে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। বিষয়টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও সত্যতা পাওয়া গেছে।’
তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের : দিঘলিয়া থানার ওসি বলেন, ‘আমার কাছে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। আমি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ ঘটনায় অভিযোগটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ছাত্রীর মা।
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ


