ঢাকা, ১৬ মে-২০২৬
ওয়াহিদ মুরাদ, (খুলনা ব্যুরো চীফ) : পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলাজুড়ে জমে উঠেছে কোরবানির পশু প্রস্তুতির ব্যস্ততা। কয়েক মাসের পরিচর্যা, বাড়তি খরচ ও পরিশ্রমে খামারিরা প্রস্তুত করেছেন হাজার হাজার গবাদিপশু। উপজেলার বিভিন্ন খামারে দেশীয় জাতের গরু ও ছাগল লালন-পালন করা হলেও এবারও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না তাদের মধ্যে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর দিঘলিয়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে মোট ৭ হাজার ২২৫টি পশু। এর মধ্যে গরু রয়েছে ২ হাজার ১৩০টি এবং ছাগল ৫ হাজার ৯৫টি। উপজেলায় কোরবানির সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৯০০টি পশু। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত রয়েছে ৩২৫টি পশু। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এ উপজেলার পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
উপজেলার পানিগাতী, সেনহাটি, বারাকপুর ও গাজীরহাটসহ বিভিন্ন এলাকার খামার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ খামারিই দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজাকরণ করেছেন। প্রাকৃতিক খাদ্য, ঘাস, খড় ও ভুসির পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে পশুগুলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে গত এক বছরের ব্যবধানে পশুখাদ্য, ওষুধ ও শ্রমিক খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে খামারিদের মধ্যে।
আরো পড়ুন : এক ব্যক্তির একাধিক জন্ম নিবন্ধন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
পানিগাতী গ্রামের খামারি আবুল বাশার জানান, একটি গরু বড় করতে আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি ব্যয় হচ্ছে। খাবার ও ওষুধের দাম বাড়ায় খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা তার। আরেক খামারি সবুজ বলেন, স্থানীয় খামারিরা অনেক কষ্ট করে পশু পালন করেন। কিন্তু হাটে মধ্যস্বত্বভোগী ও বাইরের পশুর আধিক্যের কারণে অনেক সময় সঠিক মূল্য পাওয়া যায় না। বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি থাকলে খামারিরা উপকৃত হবেন বলে মনে করেন তিনি।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, উপজেলায় কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই। খামারিদের প্রশিক্ষণ, টিকা প্রদান, চিকিৎসা ও পরামর্শ কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। দিঘলিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা সুলতানা বলেন, “এবার উপজেলায় চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিদের সার্বিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, তারা ভালো দাম পাবেন এবং বাজার স্থিতিশীল থাকবে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় পশুর হাটে কঠোর তদারকি, অবৈধ উপায়ে পশু প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অনলাইন পশুর হাট ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা জরুরি। তা না হলে উৎপাদন বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা থেকেই যাবে।
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ


