ঢাকা, ০৮ ডিসেম্বর-২০২৫
বিশেষ প্রতিবেদন : ১৯৭১ সালের ০৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর জেলা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে মুক্ত হয়েছিল। এই দিনে সদর থানার সামনে চাঁদপুরের প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ মাস্টার সেদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তি সংগ্রামে চাঁদপুর জেলার মুক্তিকামী জনতা এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ১৯৭১ সালের ৭ এপ্রিল চাঁদপুরে পাক হানাদার বাহিনী দুটি প্লেন থেকে সেলিংয়ের মাধ্যমে প্রথম আক্রমণের সূচনা করে। প্রথম দিনেই হামলায় শহরের বাণিজ্যিক এলাকায় পুরান বাজারের এক নারী পথচারী নিহত হন। পর দিন বিকেলে প্রায় ৫ শতাধিক পাকসেনার একটি বহর চাঁদপুরে প্রবেশ করে। শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে চাঁদপুর সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করে পাকিস্তানি সেনারা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউসকে পাকিস্তানি সেনা অফিসারদের বিশ্রামাগার বানানো হয়।
এপ্রিল থেকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের চলে দফায় দফায় গোলাগুলি। পরে গঠন করা হয় শান্তিবাহিনী। তারপর নতুন কায়দায় শান্তি বাহিনী ও পাকিস্তানি বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় চালাতে থাকে বর্বর অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞ। ৮ এপ্রিল রাতেই চাঁদপুরে অবস্থানরত ২ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা বিচ্ছিন্নভাবে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। পাকিস্তানি হানাদাররাও এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে প্রতিহত করতে থাকে। তখন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা মারাত্মক আহত হন। ৯ এপ্রিল ভোরে পাকিস্তানি মিলিটারি শহরে ঢুকে চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইসমাইল হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে। একই সঙ্গে তারা শহরের হাসান আলী হাইস্কুলের মোড়ে আপাক ও মাখন নামে দুই যুবককে সাইকেল চালাতে দেখে গুলি করে হত্যা করে।
এভাবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানী দোসররা কত লোককে হত্যা করেছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। চাঁদপুর জেলায় (তৎকালীন মহকুমা) সর্বশেষ যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল ৭ ডিসেম্বর লাকসাম ও মুদাফ্ফরগঞ্জ মুক্ত হওয়ার পর। যৌথ বাহিনী হাজীগঞ্জ দিয়ে ৬ ডিসেম্বর চাঁদপুর আসতে থাকলে মুক্তিসেনারা হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করে।
০৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে আগামীকাল সকাল ১০টায় শহরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘অঙ্গীকার’ পাদদেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এছাড়া একই স্থানে বেলুন ও ফেস্টুন ওড়ানো হবে। সবশেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হবে। এই কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্টরা অংশ নেবেন।
Related News :

যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া ‘কারাত-২০২৬’ উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী সানি নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

সিআরএ’র দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সোহাগ আরেফিন সভাপতি, আব্দুল কাদের রাজু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

সেনাবাহিনী প্রধান কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৯৯০ জন

চট্টগ্রামে ফোন করে ডেকে নিয়ে বাইক ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

কুমিল্লার ১৭ নং ওয়ার্ডের একটি বেকারিতে ভয়াবহ আগুন, ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে

সাজেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার

ফেনী নদীতে অভিযানে এক লক্ষ চিংড়ি পোনা জব্দ


