ঢাকা, ১০ জুন-২০২৬
ওয়াহিদ মুরাদ, (খুলনা ব্যুরো চীফ) : বাংলা সাহিত্যের অমর নীতিকবি, প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং ঐতিহ্যবাহী ঢাকা প্রকাশ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের ১৯২তম জন্মবার্ষিকী ১০ জুন (বুধবার) গভীর শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়েছে।
১৮৩৪ সালের ১০ জুন এক দুর্যোগপূর্ণ রাতে বর্তমান খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সেনহাটী গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মানিক্যচন্দ্র মজুমদার এবং মাতা ব্রহ্মময়ী মজুমদার। শৈশব থেকেই তিনি মেধা, সাহিত্যপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিচয় দেন। পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদান রেখে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার বাংলা সাহিত্যে নীতিকবিতার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। তাঁর কবিতায় নৈতিক শিক্ষা, মানবতা, দেশপ্রেম, আত্মসংযম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো অত্যন্ত সহজ ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় উপস্থাপিত হয়েছে। তাঁর রচিত বিখ্যাত নীতিকবিতা—
‘যে জন দিবসে মনের হরষে
জ্বালায় মোমের বাতি,
আশু গৃহে তার দেখিবে না আর
নিশিতে প্রদীপ ভাতি।’
আজও বাংলাভাষী মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয় এবং বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমসহ বিভিন্ন সাহিত্যচর্চায় সমানভাবে সমাদৃত।
কবি শুধু সাহিত্যিকই নন, তিনি একজন সফল সম্পাদক ও সমাজসচেতন চিন্তাবিদও ছিলেন। বাংলা ভাষার অন্যতম প্রাচীন সংবাদপত্র ঢাকা প্রকাশ-এর প্রথম সম্পাদক হিসেবে তিনি সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর লেখনী সমাজ সংস্কার, নৈতিক শিক্ষা এবং জনসচেতনতা গড়ে তুলতে বিশেষ অবদান রাখে। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে নীতিকবিতা, দেশাত্মবোধক রচনা এবং সমাজজাগরণমূলক বিভিন্ন কবিতা ও প্রবন্ধ। সহজ-সরল অথচ গভীর অর্থবহ ভাষাশৈলীর মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর রচনায় নৈতিক আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধের যে শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। দীর্ঘ সাহিত্যজীবন শেষে ১৯০৭ সালের ১৩ জানুয়ারি তিনি পরলোকগমন করেন। তবে তাঁর সৃষ্টিকর্ম বাংলা সাহিত্যকে আজও সমৃদ্ধ করে চলেছে এবং নতুন প্রজন্মকে ন্যায়, সত্য ও মানবিকতার পথে চলার প্রেরণা জোগাচ্ছে।
কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ব্লাড ব্যাংক এক বিবৃতিতে কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মকে মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সাহিত্যপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষাবিদ ও সর্বস্তরের মানুষ তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিঘলিয়ার গর্ব, বাংলা সাহিত্যের এই মহান কৃতী সন্তানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে সমগ্র জাতি। তাঁর আদর্শ, সাহিত্যকর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
Related News :

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ

কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে নিন্দা


