ঢাকা, ২৮ আগস্ট-২০২৫
ওয়াহিদ মুরাদ, (বিভাগীয় ব্যুরো চীফ) : ধীর গতিতে চলছে খুলনার দিঘলিয়া বাসীর স্বপ্নের ভৈরব সেতুর নির্মাণ কাজ। দফায় দফায় বাড়ছে প্রকল্পের মেয়াদ, তবু শেষের আলো দেখা যাচ্ছে না। ২০২১ সালের মে মাসে নির্মাণ কাজ শুরুর পর কেটে গেছে সাড়ে চার বছর, অথচ অগ্রগতি মাত্র ১৬ শতাংশ।
প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল ২০২৪ সালের মধ্যেই সেতুটি খুলনার দিঘলিয়া বাসীর চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তে এসেও দৃশ্যমান হয়নি কাঙ্ক্ষিত সেতু। দিঘলিয়া অংশে কেবল কয়েকটি পিলার দাঁড়িয়ে আছে, যা এখন দিঘলিয়াবাসীর একমাত্র সান্ত্বনা। ২০২৭ সালের আগে এই ভৈরব সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আশাও ক্ষিণ বলে মনে করেন দিঘলিয়াবাসী।
মেয়াদ বাড়লেও অনিশ্চয়তা কাটেনি :
দ্বিতীয় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবুও সময়মতো কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে বাস্তবায়নকারী সংস্থা খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী আশা করছেন, ২০২৭ সালের জুন নাগাদ সেতুর কাজ শেষ হবে।
টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি শহরাংশে আবারও কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্প সূত্র জানায়, একনেক ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সেতুর প্রকল্প অনুমোদন দেয়। এরপর দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০২০ সালের নভেম্বরে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে (করিম গ্রুপ) নির্মাণ কাজের দায়িত্ব দেয়। ২০২১ সালের মে মাসে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক কাজ।
নকশা পরিবর্তনেই দেরি :
কাজ শুরুর তিন বছর পর ২০২৪ সালের মে মাসে সেতুর নকশা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। নতুন নকশায় স্টিল সেতুর দৈর্ঘ্য ১০০ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১৬০ মিটার এবং প্রস্থ ৩ মিটার বাড়ানো হয়েছে। তবে বুয়েট বিশেষজ্ঞ দলের অনুমোদন এখনো মেলেনি। এ কারণে প্রকল্প আবারও আটকে আছে।
এদিকে রেলওয়ের ২.৫৮৬ একর জমি এখনো হস্তান্তর না হওয়ায় শহরাংশে নির্মাণকাজে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকৌশলীদের ব্যাখ্যা :
প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হক বলেন, ‘কাজের শুরুতেই জমি হস্তান্তরে জটিলতা ছিল। পাশাপাশি করোনা-পরবর্তী মন্দা, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং শ্রমিক সংকটে কাজ ব্যাহত হয়। বর্তমানে পাইলিংয়ের কাজ চলছে, নকশা ও জমি হস্তান্তরের অনুমোদন মিললেই গতি আসবে।’
সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক জানান, ‘এখন পর্যন্ত সেতুর ১৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি ২০২৭ সালের জুনে কাজ শেষ করা যাবে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও মূল ব্যয় বাড়বে না, কেবল অতিরিক্ত কাজের ব্যয়ই মেটাতে হবে।’
এলাকাবাসীর ক্ষোভ :
দিঘলিয়ার বিশিষ্টজনেরা বলেন, ‘দিঘলিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতীক এই ভৈরব সেতু এখন হতাশার নাম। এত ধীরগতিতে কাজ চলায় জনগণের আস্থা নষ্ট হচ্ছে এবং এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।’
উপসংহার :
খুলনার দিঘলিয়াবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার ভৈরব সেতু কবে আলোর মুখ দেখবে, তা এখনো অনিশ্চিত। জমি হস্তান্তর ও নকশা অনুমোদনের জটিলতা কাটলেই গতি আসবে- এমনটাই প্রত্যাশা প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের।
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ


