ঢাকা, ০৭ নভেম্বর-২০২৬
ওয়াহিদ মুরাদ, (চীফ রিপোর্টার) : শিক্ষক স্নেহ, ভালোবাসা আর পাঠদানের মধ্য দিয়ে গড়ে তুলেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টেনে বিদায়ের দিনে সেই প্রিয় শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আর সহকর্মীদের অশ্রুসিক্ত বিদায় যেন আবেগে আপ্লুত করে তুলল তাঁকে। বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে কর্মস্থল ছাড়লেন খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ১৬ নম্বর বারাকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অধীর কুমার কুন্ডু।
আজ ০৭ নভেম্বর (শনিবার) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ও জমকালো বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক আবেগঘন মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. জিয়াদ হোসেন। সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ বদিয়ার রহমান। বিদায় সম্মাননা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বারাকপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হীরা ইয়াসমিন।
অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি সৈয়দ আনিসুজ্জামান, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার মোড়ল, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মো. মনির হোসেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন মোল্লা আবুল বাশার, রিতা জেসমিন, মো. ইমরান হোসেন, মাকসুদুল আনাম, মো. জহুর বিশ্বাস, শেখ আব্দুর রউফ, মো. আনোয়ার হোসেন, দিঘলিয়া উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতা ফরাজী জাকির হোসেন, মো. জুয়েল হাওলাদার, শুয়াইব হোসেন রানা, মো. কামরুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, সেকেন্দার আলী, শেখ আল মামুনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে অধীর কুমার কুন্ডুর দীর্ঘ ৩১ বছরের শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন। তাঁরা বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই বিতরণ করেন না, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ, আন্তরিকতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা সহকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সহকারী শিক্ষক অধীর কুমার কুন্ডু। দীর্ঘ ৩১ বছরের কর্মজীবনের স্মৃতিবিজড়িত বিদ্যালয়, সহকর্মী এবং প্রিয় শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর আবেগাপ্লুত বক্তব্যে উপস্থিত অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষককে ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জমকালো এ আয়োজনে বাড়তি মাত্রা যোগ করে ব্যান্ড দলের পরিবেশনা। তবে পুরো আয়োজনের সবচেয়ে আবেগঘন ও ব্যতিক্রমী আকর্ষণ ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে করে বিদায়ী শিক্ষককে বিদায় জানানো। ঘোড়ার গাড়িতে প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ের দৃশ্য দেখতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
বিদায়ের শেষ মুহূর্তে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। দীর্ঘদিনের সান্নিধ্য, স্নেহ, শাসন ও ভালোবাসার স্মৃতি মনে করে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক অশ্রুসিক্ত ও হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের।
সহকারী শিক্ষক অধীর কুমার কুন্ডু ১৯৯৫ সালে কর্মজীবন শুরু করেন।৩১ বছরের কর্মজীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও শিক্ষক অধীর কুমার কুন্ডুর রেখে যাওয়া শিক্ষা, আদর্শ ও ভালোবাসা তাঁর শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে আজীবন। ঘোড়ার গাড়িতে তাঁর এই বিদায় যেন শুধু একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের সমাপ্তি নয়, বরং ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় গড়ে ওঠা দীর্ঘ এক সম্পর্কের আবেগঘন অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি।
Related News :

কয়রায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহিত দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা

খুলনায় রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, দেওয়ালে রবীন্দ্রবিরোধী পোস্টার

খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে হতদরিদ্র, দুস্থ ও পথশিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ

হযরত খান জাহান আলীর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

খুলনায় মাছের ঘের ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা

কয়রায় সাইবার নিরাপত্তায় সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা আগমন উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বিএনপির আনন্দ মিছিল ও পথসভা

কয়রায় সামসের সিড প্রকল্পের ইউনিয়ন পর্যায়ে এ্যাডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত



