ঢাকা, ০৪ অক্টোবর-২০২৬
জেলা প্রতিবেদক : খুলনার দিঘলিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক নেতা ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি নাসিমুল গণি ওরফে নাসিম (৫৫) গুলিতে নিহত হয়েছেন। ০৪ অক্টোবর (রবিবার) বেলা পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের ফরমাইশখানা এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টার মধ্যে ফরমাইশখানার একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন নাসিম। এ সময় ভ্যানযোগে দুই ব্যক্তি সেখানে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে তাঁর মাথায় তিনটি গুলি লাগে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসাইন মাসুম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিন রাউন্ড তাজা গুলি ও তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। নিহত নাসিম দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকার মৃত আবদুল গফুরের ছেলে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, নাসিম নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতা ছিলেন। দিঘলিয়া ও খুলনা অঞ্চলে সংগঠনটির কর্মকাণ্ড পরিচালনার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নাসিমের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। আলোচিত গণেশ হত্যা মামলায় তাঁর ৩২ বছরের কারাদণ্ড এবং একটি অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বিএনপি নেতা রিয়াজ শাহেদ হত্যা চেষ্টা এবং জাহিদ চেয়ারম্যান হত্যা মামলাতেও তিনি আসামি ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ২০০২ সালে গণেশ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে আত্মগোপনে চলে যান নাসিম। দীর্ঘ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে অবস্থান করেন তিনি। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে প্রথম দফায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১৮ জুন রাতে দিঘলিয়া থানা পুলিশ তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করে। তবে থানায় নেওয়ার পথে তাঁর সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে পুলিশের দাবি। পরে ২২ জুন খুলনার খালিশপুরের মুজগুন্নি পার্ক এলাকার একটি ভবন থেকে গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, হুজি শহীদ, মুন্না, ইকবাল হুজুর ও ফকিরহাটের জাহিদ চেয়ারম্যান হত্যা মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলায় নাসিমের নাম রয়েছে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, প্রাথমিকভাবে নাসিমের বিরুদ্ধে সাতটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি হত্যা, একটি অস্ত্র এবং একটি মারামারির মামলা। তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নাসিমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ


