ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর-২০২৬
মহিদুল ইসলাম শাহীন, (জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, খুলনা) : সন্ত্রাস, মাদক আর দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অনিয়মে ‘ঘুনে ধরা’ সমাজব্যবস্থা পরিষ্কারের কাজ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে দীর্ঘদিনের দলীয়করণও দায়ী। তবে সন্ত্রাস দমনের নামে বেআইনি কোনো পথ বেছে নেবে না সরকার। আইনের কাঠামোর বাইরে কোনো ‘ক্রসফায়ার’ হবে না।
আজ ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমন নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না সরকার। সন্ত্রাস দমনে আমাদের যে আইন আছে, সেটাই যথেষ্ট। তারপরও যদি আইনের পরিবর্তন করতে হয়, সে বিষয়ে সরকার ভাববে।’ মানবাধিকারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে সরকার আরও কঠোর হবে বলেও জানান তিনি।
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘১৭ বছরে মানবতাবিরোধী মহাযজ্ঞ চলছে। প্রশাসনকে এমনভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি তারই বহিঃপ্রকাশ।’ তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। সরকারকে আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য সময় দিতে হবে। “একটি ঘুনে ধরা সমাজব্যবস্থাকে পরিষ্কার করা হচ্ছে” বলে মন্তব্য করেন তিনি। সন্ত্রাস দমনে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান মন্ত্রী। মাদকের বিস্তারকে সন্ত্রাস বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পরিকল্পিত ভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশে মাদক ঢোকানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল পাঠানো হচ্ছে। এমনকি ড্রোনের মাধ্যমেও ইয়াবা পাঠানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি। মানবাধিকার কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ রাখতে সিলেকশন কমিটির প্রধান হিসেবে স্পিকারকে রাখা হয়েছে। কমিশনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের অভিযোগও কমিশন তদন্ত করতে পারবে। এর আগে সকাল ৯টায় খুলনা জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। সেখানে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলাজট কমাতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনের এমপি আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-১ আসনের এমপি আমীর এজাজ খান,কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু,খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, কেএমপি কমিশনার, পুলিশ সুপার, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় খুলনার সন্ত্রাস, মাদক, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ‘ঘুনে ধরা সমাজব্যবস্থা পরিষ্কার করছি’—খুলনায় আইনমন্ত্রী। পরে বিকাল সাড়ে ৪ টায় খুলনা প্রেসক্লাব ব্যাংকুয়েট হলে মহানগর ও জেলা বিএনপির জরুরি সভায় শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তৃতা করেন আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান। এ সময় হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল এমপি, আমির এজাজ খান এমপি, মনিরুল হাসান বাপ্পি প্রমুখ।
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ


