ঢাকা, ২৪ আগস্ট-২০২৬
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : মাদকদ্রব্যের ব্যবহার একটি ব্যক্তি বা পরিবারের সমস্যা নয়; এটি সমাজ, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বড় হুমকি। মাদকের কারণে একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবারে অশান্তি, অপরাধপ্রবণতা, আর্থিক সংকট এবং সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হতে পারে। তাই মাদক প্রতিরোধকে শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে না দেখে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া জরুরি।
কেন তরুণরা মাদকের দিকে ঝুঁকছে? : কৌতূহল, বন্ধুমহলের প্রভাব, পারিবারিক অবহেলা, হতাশা, বেকারত্ব, মানসিক চাপ এবং মাদক সম্পর্কে ভুল ধারণা তরুণদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। অনেক সময় শুরুটা হয় ‘একবার চেষ্টা করে দেখি’ থেকে; পরে সেটিই অভ্যাস ও নির্ভরশীলতায় পরিণত হয়।
প্রতিরোধে পরিবারের ভূমিকা : মাদক প্রতিরোধের প্রথম জায়গা পরিবার। সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, আচরণগত পরিবর্তনের প্রতি নজর রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি। শুধু শাসন নয়—ভালোবাসা, সময় দেওয়া এবং নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা : বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত মাদকবিরোধী আলোচনা, কাউন্সেলিং, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর পরিবর্তে মাদকের বাস্তব ক্ষতি, আসক্তির ঝুঁকি এবং সহায়তা পাওয়ার পথ সম্পর্কে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য দিতে হবে।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পুনর্বাসন : মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুধু অপরাধী হিসেবে দেখলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। যারা আসক্ত হয়ে পড়েছেন, তাদের চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, পুনর্বাসন এবং পরিবারে পুনঃএকীভূত হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
সমাজের করণীয় : মাদকবিরোধী কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক বিক্রির তথ্য গোপন না করে দায়িত্বশীলভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং মাদককে সামাজিকভাবে নিরুৎসাহিত করা দরকার।
আমাদের অঙ্গীকার : মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। তরুণদের হাতে মাদক নয়—শিক্ষা, দক্ষতা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলে দিতে হবে। মাদকবিরোধী সংগ্রাম কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলন। আজকের সচেতনতা, পারিবারিক দায়িত্ববোধ এবং সম্মিলিত প্রতিরোধই পারে আগামী প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে।
লেখক : আফজাল আহমেদ, (সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও সংগঠক)
Related News :

নিবন্ধন-ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া সড়কে কোন ই-রিক্সা চলবে না : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

বাংলা কিউআরভিত্তিক ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেন সেবা চালু

ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২,২১৮

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক-২০২৭ : আবেদন পাঠানোর সময়সীমা বাড়ল

নিরাপত্তাঝুঁকিতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

অবৈধ মোবাইল ফোনে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে চালু হচ্ছে এনইআইআর

প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা

সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৭ দিন বন্ধ থাকবে অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রমে গতি আনতে চেয়ারম্যানের নির্দেশনা বাস্তবায়নের তাগিদ


