ঢাকা, ০১ মার্চ-২০২৫
বিশেষ প্রতিনিধি : খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী বি.এম সেলিম রেজার বিরুদ্ধে পাহাড়সম অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসছে বিশেষ অনুসন্ধানে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বিশ্বাসের ছেলে সেলিম রেজা ২০১২ সালে খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলা পরিষদে ‘কম্পিউটার অপারেটর’ পদে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর চাকুরীকালীন সময় অবৈধ সুযোগ সুবিধা দিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে দুর্নীতি অনিয়ম করে দিনের পর দিন সম্পত্তির পরিমাণ ও ক্ষমতা ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে। ছয় বছরের ব্যবধানে এক কোটি ১০ লক্ষ টাকার সম্পদ গড়েছেন শুধুমাত্র ফুলতলাতে।
সেলিম রেজা খুলনা জেলার ফুলতলা দামোদর ৮ নং ওয়ার্ডে ২০১৯ সালে ৫৬ লক্ষ টাকা দিয়ে জায়গা সহ একটি বাড়ি কিনেন এবং খুলনা’র শিরোমনি হাইওয়ের পাশে ডাকাতিয়া বিলে ২০২১ সালে ২০ লক্ষ টাকার জমি দুর্নীতি করে ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে জোর জুলুম করে লিখে নেন মাহাতাব কাজীর কাছ থেকে।
এছাড়া ২০২৩ সালে খুলনা’র ফুলতলা বাজার সংলগ্ন মিশ্রি দেওয়ান শাহ রোডে দুটি দোকান ক্রয় করেন, একটি ত্রিশ লাখ পঁচিশ হাজার টাকা ও আরেকটি চৌদ্দ লাখ পচাত্তর হাজার টাকা দিয়ে কিনেন সেলিম রেজা। এছাড়াও দুর্নীতি করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) অর্থ বছরের ২০২২-২৩ এর সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে সাত লাখ ছিয়াশি হাজার একশত ত্রিশ টাকা উত্তোলন করেন সেলিম রেজা এবং ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের দুর্যোগ সহনীয় বরাদ্দকৃত ঘর আসে অসহায় মানুষদের জন্য, তার মধ্য একটি বরাদ্দকৃত ঘর আসে বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানের নামে পরবর্তীতে সেখানে সেলিম রেজা দুর্নীতি করে বরাদ্দকৃত ঘরটি নেন তার শাশুড়ির নামে। কিন্তু এখানে আরো একটি দুর্নীতি করে সেলিম রেজা, জানা যায় তার শাশুড়ির অভয়নগর উপজেলার ধুলগ্রাম ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তবে বরাদ্দকৃত ঘর টি করেছেন তার জামাই সেলিম রেজার বাড়ির ভিতরে। এ যেন মগের মুল্লুক হয়ে পড়ে আছে দেখার কেউ নেই।
এতো এতো দুর্নীতি অনিয়মের কারণে ফুলতলা উপজেলার সাধারণ মানুষ সেলিম রেজার বিরুদ্ধে ফুলতলা উপজেলা পরিষদের নির্বাহী অফিসারের বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এমন একটি অভিযোগ করেন ফুলতলা ৪ নং ইউনিয়ন পরিষদের ৪,৫,৬ এর সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচিত সদস্য রিক্তা বেগম।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর রিক্তা বেগম অভিযোগে লেখেন- আমি মোছাঃ রিক্তা বেগম, ফুলতলা ৪ নং ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা নির্বাচিত সদস্য। ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প এক লক্ষ ৯০ হাজার পি,আই,সির একটি ড্রেন প্রকল্প আমাকে সভাপতি করে কাজটি বরাদ্দ দেয়া হয় এবং আবাসন প্রকল্পের ৩টি বাড়ি আমার নিয়ন্ত্রণধীন ৪ নং ওয়ার্ড এর ৩ জন গৃহীনের জন্য বরাদ্দ করা হয় তাদের নাম যথাক্রমে কোকিলা বেগম, কাজল খাতুন ও হাবিবুর রহমান।
পরবর্তীতে সেলিম রেজা সহ প্রকল্পের লোকজন তদন্তে এসে উপযুক্ত গৃহহীনদের কাছ থেকে সরকারি ঘর পেয়েছে এই মর্মে যাবতীয় কাগজপত্র আইডি কার্ড সহ অন্যান্য তথ্য নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে প্রত্যেকের কাছে (সেলিম রেজা) ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ দাবি করে, কিন্তু হতদরিদ্র গৃহহীন হওয়ায় দাবিকৃত অর্থের জোগান না দিতে পারায় তালিকায় নাম থাকা স্বত্বেও তারা ঘর বুঝিয়া পায়নি।
এছাড়াও ২০২০ সালে একটি ডিপ টিউবওয়েল, এর আবেদন করতে গেলে (সেলিম রেজা) টিউবওয়েল পাশ করে দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকের কাছ থেকে ৮০০০ টাকা দাবি করেন। উক্ত অর্থ প্রদানের এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনও কোন টিউবওয়েলের হদিস নেই।
এ জাতীয় নানান দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন এলাকাবাসী। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর সেলিম রেজার দূর্নীতি নির্মূল ও সাধারণ মানুষ এর অধিকার ফিরিয়ে দিতে সমাধান চেয়ে লিখিত অভিযোগ পত্র সহ সকল প্রমাণ এর অনুলিপি সংযুক্তি করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

নিবন্ধন-ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া সড়কে কোন ই-রিক্সা চলবে না : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

বাংলা কিউআরভিত্তিক ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেন সেবা চালু

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর


