ঢাকা, ১১ আগস্ট-২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদন : ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা বলেছেন, প্রচুর তরল শরীরকে আর্দ্র রাখে এবং রক্তচাপ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। আর বিশ্রাম শরীরকে দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে দিতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন ও ফলের জুস বেশি বেশি খাওয়াতে হবে। এটি শরীরের পানির ঘাটতি রোধ করে এবং দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কাদের বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে তরল খাবারের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো খুব জরুরি। এ সময় পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, ক্লান্তির পাশাপাশি রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণও কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে খাবার তালিকায় প্রোটিনযুক্ত খাবার রাখতে হবে। এ সময় মাছ, মাংস, ডাল, ডিম, বাদাম, দুধ ও দই খাবার তালিকায় রাখা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন ও ফলের জুস, দই বা লাচ্ছি বেশি বেশি খাওয়াতে হবে। এছাড়াও চিকেন স্যুপ, বাদাম ও মিল্ক শেক, পুডিং খুব উপকারী ও সহজপাচ্য খাবার। জ্বরে আক্রান্ত রোগী যেহেতু ভারী খাবার খেতে পারে না, তাই পুষ্টিকর হালকা খাবার একটু পরপর গ্রহণ করলে শরীরের পর্যাপ্ত পুষ্টি সরবরাহ হয়। রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়ে ডা. মো. আব্দুল কাদের বলেন, ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার, যেমন- লেবু, কমলা, মাল্টা, আমলকী, জলপাই, জাম্বুরা, আনারস খেতে পারে। ভিটামিন-সি আমাদের শরীরে সহজে আয়রন শোষণে সাহায্য করে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দেওয়ার মাধ্যমে জ্বর কমাতে হবে। এ ছাড়া ছয় থেকে আট ঘণ্টা পরপর জ্বরের তীব্রতা বুঝে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরের মূল চিকিৎসা হলো শরীরে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাপনা। পানির পাশাপাশি ফলের রস, স্যুপ, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, শরবত প্রভৃতি তরল খাবার খাওয়াতে হবে। ডেঙ্গু রোগীকে পরিপূর্ণ বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ভাইরাল ফিভারের মূল ওষুধই হলো বিশ্রাম। কারণ বিশ্রাম আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে রোগের বিরুদ্ধে পরিপূর্ণ তৎপর হওয়ার সুযোগ করে দেবে। তবে খেয়াল রাখবেন বিশ্রামের সময়টুকু যেন সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন গেম কিংবা অহেতুক নেট ব্রাউজ না করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯ হাজার ৩৪৫ জন এবং মারা গেছেন ৬১ জন। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২২ জন এবং নারী ৩৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নারী ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আক্রান্তের মধ্যে শূন্য থেকে ৩৫ বছর বয়সী ১০ হাজার ৩২ জন মারা গেছেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ঢাকা বিভাগেই ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
Related News :

বাংলাদেশি চক্ষু রোগীদের জন্য চীনে বিশেষ চিকিৎসাসেবা, চালু হলো ‘গ্রিন চ্যানেল’

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

জবিতে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতায় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও বিভিন্ন কর্মসূচি

চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চায় ড্যাব

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জরুরি

থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার দেওয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

'বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস-২০২৬' আগামীকাল

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অভিযানে চানখাঁরপুলের এক্টিভ ডায়াগনস্টিক ও হেলথ এইড বন্ধ

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা


