ঢাকা, ২৪ মে-২০২৬
ওয়াহিদ মুরাদ, (দিঘলিয়া, খুলনা) : পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলাজুড়ে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। উপজেলার বিভিন্ন খামার ও গ্রামীণ পরিবারের লালন-পালন করা গরু, ছাগল ও ভেড়া নিয়ে এখন প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর পুরো এলাকা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি এবং কেনাবেচার ব্যস্ততা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর দিঘলিয়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে মোট ৭ হাজার ২২৫টি পশু। এর মধ্যে গরু রয়েছে ২ হাজার ১৩০টি এবং ছাগল ৫ হাজার ৯৫টি। উপজেলায় সম্ভাব্য কোরবানির চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৯০০টি পশু। সেই হিসেবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত রয়েছে ৩২৫টি পশু। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরও এ উপজেলার পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। উপজেলার পানিগাতী, সেনহাটি, বারাকপুর ও গাজীরহাটসহ বিভিন্ন এলাকার খামার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ খামারিই দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজাকরণ করেছেন। প্রাকৃতিক খাদ্য, ঘাস, খড় ও ভুসির পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা ও চিকিৎসার মাধ্যমে পশুগুলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারে দেশি পশুর চাহিদাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
ঈদ সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পথেরবাজার পশুরহাট। গত ২২ মে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর থেকেই প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খামারি, ব্যাপারী ও ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে পুরো হাট এলাকা। দূরদূরান্ত থেকে মিনি ট্রাক, পিকআপ ও নসিমনে করে পশু নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা। স্থানীয়দের মতে, দিঘলিয়ার অন্যতম বৃহৎ ও পরিচিত পশুরহাট এটি, যেখানে প্রতিবছর ঈদুল আজহাকে ঘিরে বিপুল পরিমাণ গবাদিপশুর বেচাকেনা হয়।
পথেরবাজার পশুরহাট কমিটির কো-কনভেনার খন্দকার ফারুক হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ হাট এ অঞ্চলের মানুষের আস্থার জায়গা হিসেবে পরিচিত। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে জাল টাকা শনাক্তকরণে স্ক্যানার মেশিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, কাদা ও পানি মুক্ত পরিবেশ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বৃক্ষরাজি পরিবেষ্টিত মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা এ পশুরহাটে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, র্যাব ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছেন। সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে পুরো হাট এলাকা। সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে এবার পশু বিক্রির হাসিল নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ শতাংশ।
উপজেলার পানিগাতী গ্রামের খামারি দাউদ খান জানান, সারা বছর যত্নে লালন-পালন করা একটি গরু তিনি এক লাখ ৪৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। বাজারে দেশি গরুর চাহিদা ভালো থাকায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর আশা, ঈদের দু-এক দিন আগে বেচাকেনা আরও বাড়বে। পশু ব্যবসায়ী মামুন বলেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসে, পশুর হাটে কেনাবেচা তত বেড়ে যায়। তিনি বিভিন্ন গ্রাম থেকে পশু সংগ্রহ করে বিভিন্ন হাটে বিক্রি করেন। তাঁর মতে, এ অঞ্চলের মধ্যে পথেরবাজার পশুরহাটেই সবচেয়ে বেশি গরু কেনাবেচা হয় এবং দেশি পশুর কদরও বেশি। ক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানান, কয়েকটি হাট ঘুরে তিনি এ হাট থেকেই পছন্দের একটি দেশি গরু কিনেছেন। তাঁর মতে, এবার বাজারে ভালো মানের পশুর সরবরাহ তুলনামূলক বেশি।
দিঘলিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা সুলতানা বলেন, কোরবানির পশু সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পশুর রোগ প্রতিরোধ ও পরিচর্যায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ঈদকে ঘিরে পশুর হাটে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে কেনাবেচা করতে পারেন, সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি রয়েছে। একই সঙ্গে কোরবানির পর চামড়া সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ


