ঢাকা, ১০ মে-২০২৬
ওয়াহিদ মুরাদ, (খুলনা ব্যুরো চীফ) : খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ব্রাহ্মগাতি সুতিরকুল গ্রামের দরিদ্র কাঠমিস্ত্রি মিজান মোল্লার জীবন আজ যেন এক নির্মম বাস্তবতার গল্প। যে মানুষটি একসময় প্রতিদিন শ্রম বিক্রি করে সংসারের চাকা ঘুরিয়েছেন, স্ত্রী ও ছোট্ট কন্যা সন্তানকে নিয়ে স্বপ্ন বুনেছেন, আজ সেই মানুষটি অসহায়ভাবে শুয়ে আছেন মৃত্যুশয্যায়। শরীরের নিচের অংশ প্রায় অচল, বিছানায় পড়ে থেকে কোমর থেকে পা পর্যন্ত ঘা হয়ে পচন ধরেছে। অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে চিকিৎসা। তবুও তার চোখে এখনো একটুকরো আশা- বাঁচতে চান তিনি।
জিল্লাল মোল্লার ছেলে মিজান মোল্লা, পেশায় ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি। সামান্য আয় হলেও তা দিয়েই সুখে-শান্তিতে চলছিল তার ছোট সংসার। কিন্তু গত ডিসেম্বর ২০২৫-এ হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর শুরু হয় নতুন বিপর্যয়। তার শরীরে পক্স দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে প্রস্রাব-পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে খুলনা ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে শুরু হয় একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। চিকিৎসকরা নানা ধরনের টেস্ট দেন, চলে চিকিৎসা। কিন্তু প্রতিটি পরীক্ষার খরচ, ওষুধপত্র কেনা, হাসপাতালে থাকা-সব মিলিয়ে দরিদ্র পরিবারটির ওপর নেমে আসে অর্থনৈতিক দুর্যোগ। নিজের সামর্থ্য না থাকলেও মানুষের কাছে হাত পেতে, ধারদেনা করে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করেন তার পরিবার। কিন্তু এত কষ্টের পরও মেলেনি আশার আলো। ১৬ দিন হাসপাতালে থাকার পর চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে মিজানকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
এখন তিনি আর বিছানা থেকে উঠতে পারেন না, বসতে পারেন না, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন না। সারাক্ষণ অসাড় হয়ে পড়ে থাকতে হয়। তার শরীরের নিচের অংশে ভয়াবহ ঘা হয়ে পচন ধরেছে। যন্ত্রণায় কাতরানো ছাড়া যেন আর কিছুই করার নেই তার। একসময় যে মানুষটি প্রতিদিন কাজ করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতেন, আজ সেই মানুষটির পরিবারে নেমে এসেছে হতাশার কালো ছায়া। ঘরে নেই উপার্জন, নেই চিকিৎসার অর্থ। ছোট্ট মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে মিজানের বুক ভেঙে যায়। তিনি শুধু ভাবেন-‘আমি কি বাঁচবো? আমি কি আবার আমার মেয়েকে কোলে নিতে পারবো? আবার কি সুস্থ মানুষের মতো হাঁটতে পারবো?’
মিজানের বাবা জিল্লাল মোল্লা পেশায় একজন চা বিক্রেতা। ছেলের চিকিৎসার জন্য নিজের সামর্থ্যের সবটুকু তিনি ব্যয় করেছেন। কিন্তু এখন আর তার পক্ষে চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। চোখের সামনে সন্তানের এমন অসহায় অবস্থা দেখে একজন পিতার বুক ফেটে গেলেও অর্থের অভাবে তিনি আজ দিশেহারা। পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস, সঠিক চিকিৎসা পেলে মিজান হয়তো আবার সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। আবার কাঠের কাজ করে সংসার চালাতে পারবেন। আবার ফিরে পেতে পারেন স্বাভাবিক জীবন। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন অর্থ, প্রয়োজন মানুষের সহমর্মিতা। এ অবস্থায় মিজান মোল্লা ও তার পরিবার দেশ-বিদেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে সাহায্যের আকুল আবেদন জানিয়েছেন। সামান্য সহায়তাও হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে একটি পরিবারের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন, একটি শিশুর বাবাকে, একজন স্ত্রীর স্বামীকে।
মানবিক সাহায্য পাঠানোর জন্য- ০১৯৬৯-৭৯৬১১৪ (বিকাশ নাম্বার)
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ


