ঢাকা, ০৭ এপ্রিল-২০২৬
ওয়াহিদ মুরাদ, (খুলনা ব্যুরো চীফ) : খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা জুড়ে বোরো মৌসুমে ধানক্ষেতে ক্ষতিকর পোকা দমনে পরিবেশবান্ধব ‘আলোক ফাঁদ’ পদ্ধতির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ইতোমধ্যে সুফল পেতে শুরু করেছেন কৃষকরা। ফলে কমছে কীটনাশকের ব্যবহার, হ্রাস পাচ্ছে উৎপাদন খরচ, লাভবান হচ্ছেন কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রবি মৌসুমে দিঘলিয়ার ৬টি ইউনিয়নের ১৮টি ব্লকে একযোগে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। ০৬ এপ্রিল (সোমবার) সন্ধ্যার পর এসব ফাঁদ স্থাপনের সময় কৃষি কর্মকর্তা, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাসহ স্থানীয় কৃষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলায় চলতি মৌসুমে মোট ৪ হাজার ৮৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কপিল দেব বসাক জানান, বর্তমানে ধানের ক্ষেত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর-ফুল, দুধ ও দানা-পর্যায় অতিক্রম করছে। সামগ্রিকভাবে ফসলের অবস্থা সন্তোষজনক। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেনহাটি ইউনিয়ন-এর বাঁশেরহাট কুন্ডুপাড়া মাঠে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়। মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ফাঁদে তেমন কোনো ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরা পড়েনি, যা বর্তমান সময়ে ধানের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।
বর্তমানে উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ ধানের সমারোহ। কৃষকরা বিষের বিকল্প হিসেবে আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করে পোকা শনাক্ত ও দমন করছেন। ক্ষেতের আইলে পানিভর্তি পাত্র কিংবা আলোর উৎস স্থাপন করে বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা আকৃষ্ট করে ধরা হচ্ছে। এতে কৃষকরা সহজেই পোকামাকড়ের উপস্থিতি ও মাত্রা নির্ধারণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারছেন।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, এ পদ্ধতিতে ধানের প্রধান ক্ষতিকর পোকা-কারেন্ট, মাজরা, গান্ধি পোকা, চুঙ্গি পোকা এবং বাদামী ঘাসফড়িং-নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে কীটনাশকের ওপর নির্ভরশীলতা কমে পরিবেশও সুরক্ষিত থাকছে। গোয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাইউম বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমরা আলোক ফাঁদ ব্যবহার করছি। এতে ক্ষেতে পোকা দমন সহজ হচ্ছে এবং উৎপাদন খরচ কমছে। ফলনও ভালো হওয়ার আশা করছি।’ কৃষি অফিস আরও জানায়, খুলনা জেলার মোট ৬১টি ব্লকে একযোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. কিশোর আহমেদ বলেন, ‘আলোক ফাঁদ একটি সহজ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। কৃষকদের মাঝে এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে নিয়মিত কৃষক সভা ও উঠান বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা সচেতন হচ্ছেন এবং অধিক লাভবান হচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আলোক ফাঁদের মাধ্যমে কীটনাশকের ব্যবহার কমানো সম্ভব, যা পরিবেশের জন্য ইতিবাচক। এ মৌসুমে দিঘলিয়ায় বোরো ধানের ফলন ভালো হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
সার্বিকভাবে বলা যায়, দিঘলিয়ায় কৃষি বিভাগের এ উদ্যোগ কৃষকদের মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় কৃষি উৎপাদনে টেকসই উন্নয়নের পথ আরও সুগম হচ্ছে।
Related News :

খুলনা বিভাগে নবযোগদানকৃত সহকারী কমিশনারদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুলনায় নদীতে ভাসমান দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

তেরখাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

দিঘলিয়ায় এইচএসসিতে পাসের হার ২৯.০৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিঘলিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ইউএনও'র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা

খুলনার দিঘলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বাল্যবিবাহ, ডেঙ্গু ও মাদক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বারোপ


