ঢাকা, ২৯ এপ্রিল-২০২৬
স্বাস্থ্য সংবাদ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) জানিয়েছে, হেপাটাইটিস নির্মূলে অগ্রগতি খুবই ধীর। অথচ প্রতিবছর ১০ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই রোগ নির্মূলে প্রয়োজনীয় উপায় ইতোমধ্যেই রয়েছে। জেনেভা থেকে ডব্লিউএইচওর বরাতে জানায়, বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যুর ৯৫ শতাংশের জন্য দায়ী ভাইরাল হেপাটাইটিস বি ও সি ২০২৪ সালে ১৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছে। প্রতি বছর নতুন করে ১৮ লাখের বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলেও জানায় সংস্থাটি।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অগ্রগতি খুব ধীর এবং অসম।’ তিনি বলেন, ‘কলঙ্ক, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং চিকিৎসাসেবায় বৈষম্যমূলক প্রবেশাধিকারের কারণে বহু মানুষ এখনও শনাক্ত ও চিকিৎসার বাইরে রয়ে গেছেন।’ ‘জনস্বাস্থ্যের হুমকি হিসেবে হেপাটাইটিস নির্মূলের জন্য প্রয়োজনীয় উপায় আমাদের হাতে রয়েছে। তবে প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে সম্প্রসারণ করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
হেপাটাইটিস হলো যকৃতের প্রদাহ, যা বিভিন্ন সংক্রামক ভাইরাস ও অসংক্রামক উপাদানের কারণে হয়ে থাকে। এর ফলে গুরুতর লিভার ক্ষতি ও ক্যানসারসহ নানা স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। হেপাটাইটিসের পাঁচটি প্রধান ধরন রয়েছে। এর মধ্যে বি ও সি সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংক্রমণ হিসেবে বিবেচিত। ডব্লিউএইচওর ‘গ্লোবাল হেপাটাইটিস রিপোর্ট ২০২৬’ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি বা সি সংক্রমণে আক্রান্ত ছিলেন।
জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালে দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বিতে আক্রান্ত ২৪ কোটি মানুষের মধ্যে পাঁচ শতাংশেরও কম চিকিৎসা পেয়েছেন। অন্যদিকে, ২০১৫ সালের পর থেকে হেপাটাইটিস সি আক্রান্তদের মাত্র ২০ শতাংশ চিকিৎসার আওতায় এসেছেন। এছাড়া, হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি বোঝা বহনকারী অঞ্চল আফ্রিকায় ২০২৪ সালে মাত্র ১৭ শতাংশ নবজাতক জন্মের সময় টিকার ডোজ পেয়েছে।
প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু : হেপাটাইটিস বি ও সিজনিত মৃত্যুর দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভিয়েতনাম। ডব্লিউএইচওর হেপাটাইটিসবিষয়ক বিভাগের পরিচালক তেরেজা কাসায়েভা বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি ভাইরাল হেপাটাইটিসের কারণে প্রতিটি অনির্ণীত ও চিকিৎসাবিহীন সংক্রমণ একটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর প্রতিনিধিত্ব করে।’
ডব্লিউএইচও বলেছে, হেপাটাইটিস মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উপায় ইতোমধ্যেই বিদ্যমান। হেপাটাইটিস বি টিকা গ্রহণকারীদের ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষকে তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। হেপাটাইটিস বি-এর দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং গুরুতর লিভার রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। অন্যদিকে, হেপাটাইটিস সি-এর ক্ষেত্রে আট থেকে ১২ সপ্তাহের স্বল্পমেয়াদি চিকিৎসার মাধ্যমে ৯৫ শতাংশের বেশি সংক্রমণ নিরাময় সম্ভব। ডব্লিউএইচও জানায়, যুক্তরাজ্য, মিসর, জর্জিয়া ও রুয়ান্ডা দেখিয়েছে যে, জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে হেপাটাইটিস নির্মূল করা সম্ভব।
তেদরোস বলেন, ‘হেপাটাইটিস নির্মূল কোনো অলীক কল্পনা নয়; টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং নির্ভরযোগ্য অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন থাকলে এটি সম্ভব।’ ২০১৫ সালের পর থেকে কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। এ সময়ে হেপাটাইটিস বি-এর নতুন সংক্রমণ ৩২ শতাংশ কমেছে এবং হেপাটাইটিস সিজনিত মৃত্যু ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
Related News :

বাংলাদেশি চক্ষু রোগীদের জন্য চীনে বিশেষ চিকিৎসাসেবা, চালু হলো ‘গ্রিন চ্যানেল’

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

জবিতে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতায় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও বিভিন্ন কর্মসূচি

চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চায় ড্যাব

ডেঙ্গু হলে পর্যাপ্ত তরল খাবার ও বিশ্রামের পরামর্শ চিকিৎসকদের

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জরুরি

থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার দেওয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

'বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস-২০২৬' আগামীকাল

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অভিযানে চানখাঁরপুলের এক্টিভ ডায়াগনস্টিক ও হেলথ এইড বন্ধ


