ঢাকা, ০৮ অক্টোবর-২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদন : শত বছর বয়সের বৃদ্ধ মা। ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারেন না রহিমা খাতুন ওরফে মনোয়ারা রেফুল। জরাজীর্ণ একটি ঘরে ছোট ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। এই শতবর্ষী মায়ের অভিযোগ, জমি নিয়ে মামলা চলছে—এমন কথা বলে তার ও স্বামীর টিপসই নেওয়া হয়েছিল। পরে সেই টিপসই ব্যবহার করে প্রায় ১২ বিঘা কৃষিজমি, আমবাগান ও বসতভিটাসহ পারিবারিক সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন বড় ছেলে। অভিযুক্ত মো. মুখতারুজ্জামান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার।
সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়ার পাশাপাশি পৈতৃক বসতভিটা থেকে তাদের উচ্ছেদের চাপ এবং জরাজীর্ণ ঘরটি মেরামতে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন রহিমা খাতুন। জীবনের শেষ সময়ে বসতভিটা ও সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেতে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় সম্পত্তির অধিকার ও বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ছেলে মুখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন রহিমা খাতুন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা মাঝপাড়া গ্রামের মৃত এসলাম হোসেনের স্ত্রী। গত ৩১ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে মামলাটি করেন তিনি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মুখতারুজ্জামান তার বাবাকে ভুল তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে টিপসইয়ের মাধ্যমে জমি নিজের নামে নেন। পরে একই কৌশলে মায়ের কাছ থেকেও টিপসই নেওয়া হয়। ‘জমি নিয়ে মামলা চলছে’—এ কথা বলে বাবা-মায়ের কাছ থেকে টিপসই নেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তারা জানতে পারেন, ওই টিপসই ব্যবহার করে তাদের সম্পত্তি ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। রহিমা খাতুনের দাবি, তিনি কাউকে নিজের সম্পত্তি লিখে দেননি।
শতবর্ষী এই নারী জানান, বর্তমানে ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনকে নিয়ে পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করছেন তিনি। তবে বাড়িটির টিনের চাল ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ঘরে পড়ে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে এবং কাঠের অংশেও ঘুন ধরেছে। ঘরটি মেরামতের উদ্যোগ নিলেও মুখতারুজ্জামান তাতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়ার পর তাকে ও ছোট ছেলে ইসমাইলকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য একাধিক সালিশ, থানায় অভিযোগ এবং জেলা লিগ্যাল এইডের দ্বারস্থ হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেন বলেন, বাবা-মায়ের প্রায় ১২ বিঘা ধান ও আমের জমি এবং বসতভিটা রয়েছে। এসব সম্পত্তি বড় ভাই মুখতারুজ্জামানের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মায়ের দেখাশোনা তিনিই করেন। অথচ বাড়িটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও সেটি মেরামত করতে দেওয়া হচ্ছে না। পরিবারের অন্য দুই সদস্য আলিম হোসেন ও খাইরুল হোসেনও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, সাত ভাই-বোনের মধ্যে ছয়জনই সম্পত্তির অংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. মুখতারুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাত ৯টা পর্যন্ত তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বর্তমানে ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনকে নিয়ে বালিয়াডাঙ্গা মাঝপাড়ার পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করছেন রহিমা খাতুন। সম্পত্তি নিয়ে করা মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন আছে।
Related News :

তাহসিফ হত্যা মামলায় জেরিকা তাসনিস দিশা চার দিনের রিমান্ডে

পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যু : বরখাস্ত এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড

টঙ্গীতে শিশু যৌন নিপীড়নের মামলায় মাদরাসা শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

অটোরিকশাচালক হত্যা মামলার রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার আগরওয়ালা এক দিনের রিমান্ডে

গাজীপুরে আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দুর্নীতির মামলায় পিএসসির সাবেক গাড়িচালকের ছেলে সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড

আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান : সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩ জন

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুপিয়ে হত্যা : ১২ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


