ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর-২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদন : চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণা, ভুয়া চিকিৎসক ও অনুমোদনহীন চিকিৎসাকেন্দ্রের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব ও চিকিৎসা সম্পর্কে অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র নানা ধরনের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অর্থ। এতে একদিকে মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে ভুল চিকিৎসায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরিচয় ও নিবন্ধন যাচাই না করে চিকিৎসা নেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন দেখে রোগ নিরাময়ের নিশ্চয়তায় আকৃষ্ট হওয়া অনেক ক্ষেত্রেই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের ক্ষেত্রে দ্রুত আরোগ্য, শতভাগ নিরাময় কিংবা গোপন চিকিৎসার নামে রোগীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিছু ব্যক্তি নিজেদের চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ বা অভিজ্ঞ চিকিৎসাকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে রোগী দেখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে অস্পষ্ট তথ্য ব্যবহার করছেন। আবার কোথাও কোথাও চটকদার সাইনবোর্ড, ভুয়া প্রশংসাপত্র, রোগীর কথিত সফলতার গল্প এবং অনলাইনে প্রচারণার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার নামে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও পাওয়া যায়। এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক রোগী প্রথমে অর্থ হারানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হন। ভুল ওষুধ বা ভুল চিকিৎসার কারণে রোগ জটিল হয়ে পরে প্রকৃত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। এতে চিকিৎসার ব্যয় ও সময়—দুটিই বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং বৈধ পেশাগত নিবন্ধন যাচাই করা জরুরি। চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত। শুধু ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত তথ্যকে চিকিৎসকের যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। তাই ‘এক ওষুধে সব রোগের চিকিৎসা’, ‘কয়েক দিনে স্থায়ী নিরাময়’, ‘অপারেশন ছাড়াই সব রোগের সমাধান’—এ ধরনের অতিরঞ্জিত দাবির ব্যাপারে রোগীদের সতর্ক থাকতে হবে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক সময় প্রতারকরা রোগীর দুর্বলতা ও অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক পরীক্ষা, ওষুধ কিংবা চিকিৎসা প্যাকেজের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে। বিষয়টি বন্ধে নিয়মিত অভিযান, ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠেছে।
সচেতন মহলের মতে, ভুয়া চিকিৎসার বিরুদ্ধে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; জনগণের মধ্যেও চিকিৎসক ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাইয়ের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন ও মিথ্যা দাবি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসা মানুষের জীবন রক্ষার সেবা—এটি কোনোভাবেই প্রতারণার হাতিয়ার হতে পারে না। তাই রোগী ও স্বজনদের সচেতনতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত আইনগত পদক্ষেপই পারে চিকিৎসার নামে প্রতারণা এবং ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে আনতে।
Related News :

বাংলা কিউআরভিত্তিক ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেন সেবা চালু

ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২,২১৮

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক-২০২৭ : আবেদন পাঠানোর সময়সীমা বাড়ল

নিরাপত্তাঝুঁকিতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

অবৈধ মোবাইল ফোনে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে চালু হচ্ছে এনইআইআর

প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা

সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৭ দিন বন্ধ থাকবে অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রমে গতি আনতে চেয়ারম্যানের নির্দেশনা বাস্তবায়নের তাগিদ

জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য : নবনিযুক্ত প্রধান তথ্য কমিশনার


