‘উপমা’- আরিফ রেজা
প্রতি ভোরে চালের ফাঁক দিয়ে যখন সূর্যের আলো ছিটকে পড়ে চোখেমুখে
মূলত তখন থেকেই শুরু হয় তার বিধাতার সাথে যুদ্ধ।
এক সানকি লবন ছেটানো পান্তায় যদিওবা পূর্ণ হলো
বুভুক্ষু পেটের কিয়দাংশ তবু মস্তক হলো উত্তপ্ত।
ক্ষুধার্ত মানুষের চেয়ে আধা ক্ষুধার্ত মানুষের হিংস্রতা থাকে প্রখর;
ভাগ্যের অদৃশ্য সুতো ধরে আছেন যিনি শুরু হয় তাঁর সাথে বোঝাপড়া।
কিছুটা অশ্লীলতা, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে ভারাক্রান্ত ক্ষোভ ছুড়তে ছুড়তে বেরিয়ে আসে রাজপথে- সেই পিচঢালা পথ,
উচ্ছিষ্টের সন্ধানে মানুষে কুকুরে লুটোপুটি- সেই একই দৃশ্যপট নিত্যদিনের।
কিছুক্ষণ একঘেয়ে বিড়বিড় বকবকানি তারপর, হঠাৎই থমকে দাঁড়ানো- সেই স্বর্গদ্বার, স্বপ্নময় কিছুক্ষণ…।
বৃদ্ধ ভিক্ষুক নূব্জ্য দেহটিকে তুলতে চেষ্টা করে বারবার
কেননা প্রাচীরের ওপাশেই রয়েছে সেই স্বপ্নময় যাদুকর নিত্যদিনের নতুনত্ব…।
এই সুবিশাল সাজানো বাগান, কংক্রিটে বাঁধানো প্রশস্ত পথ, ঝাড়বাতি ঝাউবন…
ছোট্ট পুকুরে কোনো মায়াবিনী চাহনির মতো স্বচ্ছ জল…।
বৃদ্ধ ভিক্ষুক মন্ত্রমুগ্ধের মতো, বিস্ফারিত অথচ স্বপ্নালু চোখে শুষে নিতে চায় সেই সৌন্দর্যের আঁধার।
অকস্মাৎ কোনো প্রশ্নকর্তার কর্কশ বাস্তবতা চৌচির করে দেয় মগ্ন মুগ্ধ একাগ্রতা –
কী চাই -?
জড়োসড়ো অথচ নির্লিপ্ত উত্তর ভিক্ষুকের কিছুই চাইনা জনাব, আমি যে এই প্রাসাদেরই মালিক…।
হতভম্ব প্রশ্নকর্তা!
চকিতে মূহুর্ত ক্ষণ চোখবুঁজে স্মরণ করলেন-ভূমি রাজস্ব আর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের
বড়ো বাবুদের মুখটি যাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ সে এই একক অংশীদারিত্বে…।
ঝুলে পড়া চোয়াল, আতঙ্কিত কন্ঠ, জৌলুশে ভরা সেই পরাক্রমী অহংবোধ…
হঠাৎ উবে যাওয়া সাহসীকতার মতো, ছিটকে বেরিয়ে এলো দু’টি শব্দ, কেমন করে?
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দার্শনিক ছিলো উপবিষ্ট ভিক্ষুকের কন্ঠে ঘুমপাড়ানি গানের মতো মিনমিন করে বললেন যে কথা,
তার মর্মার্থ ছিলো এরকম ; আমি যাই রোজ এইপথে- কাক ডাকা ভোর, খড়খড়ে রোদ্দুর, বৃষ্টি ভেজা রাত…
ভুকভুকে পেটের যন্ত্রণা ভুলিয়ে, আমাকে দুূ’দন্ড প্রশান্তি এনে দেয় এই স্বর্গদ্বার।
এই ঝলমলে বাতিঘর- আমাকে নিয়ে যায় ঝরঝরে কোনো সোনালী আলোর দেশে;
যেখানে কোনো আঁধাপেটে মানুষ স্বপ্ন দেখেনা, প্রাচীরের ভেতর রাশি রাশি খাবারের…
আমি মুগ্ধ হই, আমি উপভোগ করি সেই সৌন্দর্যের নির্বাসন।আপনি পান বাস করার মজা,
আর আমি উপভোগ করি তার সৌন্দর্য, আমিও মালিক…।
গল্পটা শেষ হয়নি এখনো –
বলেছিলাম যেদিন বুঝতে চাওনি এতটুকু উপমায়।
ভালোবাসার অপরাধে করেছিলে তিরস্কার অথচ চাঁদের সৌন্দর্যে ছিলে বিভোর ;
যদিও পারবেনা নিশ্চিত বলতে, এই চাঁদ ছিলো তোমার; যেমন ছিলো তিরস্কারের কষ্টটুকু একান্তই আমার নিজস্ব…।
নিমজ্জিত ছিলাম অন্ধকারে, মোহাবিষ্ট সৌন্দর্যের উন্মাদনায় (তবুও চাইনি নিজের করে কিছু) পাহাড় দেখলে উঠতে চায় মন,
নদী দেখলে ছুঁতে ইচ্ছে করে জল, ফুল দেখলে মনে হয় ফুসফুস ভরে দেই তার সুগন্ধে…
ঠিক তেমন করেই ছুঁতে চাই- তোমার সরল পবিত্রতার কচিরঙ
একটু ছুঁয়ে দিলেই উঠে আসতে চায় যে রঙ এই কৃষ্ণাঙ্গ হাতের রেখায় রেখায়…।
তোমাকে পেতে চাই না আমি- (যেমন করে সৌন্দর্য হয়না কারো নিজস্ব) তবু ভালোবাসি যুগ-যুগান্ত ধরে;
যেমন করে মেঘলা দিনে, নিঃসঙ্গ মাঝির ভাটিয়ালি সুর আমাকে পাগল করে তোলে…
কেমন করে ছিনিয়ে নেবে সেই অধিকারটুকু-(?)
আমি যে ঐ বৃদ্ধ ভিক্ষুকের মতোই অবুঝ…।।
Related News :

নজরুল আবৃত্তিকে আধুনিক শিল্পের মর্যাদা দেন কাজী সব্যসাচী

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বাংলা একাডেমির সেমিনার আগামীকাল

চাঁদপুরে সাত লেখক-শিল্পী পেলেন চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি দোনাগাজী পদক

'অনুপ্রাস' জাতীয় কবি সংগঠনের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উদযাপন করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী

বাংলা একাডেমিতে গাজী শামছুর রহমান স্মারক বক্তৃতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত

'অনুপ্রাস' জাতীয় কবি সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটি ঘোষণা

জাতীয় কবি নজরুলের বিদ্রোহ, বিপ্লব, মানবিকতা ও নান্দনিক সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা

কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


