ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর-২০১৬
নেজাম কাদেরী, (বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান) : চট্টগ্রামের রাউজানে মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে প্রকাশ্যে মোহাম্মদ করিম হত্যার ঘটনায় করা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় এলজি, এয়ার গান, দুই রাউন্ড কার্তুজসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। জ ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তরা হলেন, রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের মো. সেলিম (৫০), সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮) ও মো. আলামিন (২৯)।
পুলিশ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা একদল ব্যক্তি তাকে ঘিরে প্রথমে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করেন পারভেজ। মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার জন্য করিমকে চাপ দেওয়া হলেও তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হন পারভেজ। পরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পারভেজ তার সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে আনেন। সেখানে পারভেজসহ অন্যরা করিমকে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরপর প্রথমে চট্টগ্রাম নগরের চাদগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে শুক্কুর ও জাবেদকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামারে রাখা হয়েছে। পরে সোমবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে গ্রেফতার দুই আসামিকে সঙ্গে নিয়ে ওই খামারে অভিযান চালায় ডিবি। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে খামারের ভেতরে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদরাশা এলাকা থেকে সেলিম ও আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি দেশীয় তৈরি লোহার এলজি, একটি এয়ার গান, ১২ বোরের দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি লোহার গ্রিল কাটার।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সেলিমের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা, জাবেদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা এবং আলামিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের দুটি মামলা রয়েছে। মামলার অন্যতম পলাতক আসামি পারভেজসহ অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 
Related News :

যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া ‘কারাত-২০২৬’ উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী সানি নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

সিআরএ’র দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সোহাগ আরেফিন সভাপতি, আব্দুল কাদের রাজু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

সেনাবাহিনী প্রধান কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৯৯০ জন

চট্টগ্রামে ফোন করে ডেকে নিয়ে বাইক ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

কুমিল্লার ১৭ নং ওয়ার্ডের একটি বেকারিতে ভয়াবহ আগুন, ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে

সাজেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার

ফেনী নদীতে অভিযানে এক লক্ষ চিংড়ি পোনা জব্দ


