ঢাকা, ০৮ জুলাই-২০২৬
ক্রাইমি রিপোর্টার : রাজধানীর বংশাল থানার নাজিমুদ্দিন সড়ক এলাকায় কথা কাটাকাটির জেরে মো. সুমন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নাসিমা আক্তার (৩২) নামের ওই নারীকে আটক করেছে পুলিশ। ০৭ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুর ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সুমনের বাড়ি হবিগঞ্জের কমলগঞ্জ থানার ডালু গাছ বাজার এলাকায়। তার বাবার নাম নবী মিয়া। তিনি বংশালের নাজিমুদ্দিন সড়কের একটি বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
নিহত সুমনের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা জানান, ‘আমার স্বামী ঢাকা মেডিকেল বার্ন ইউনিটে ডেইলি বেসিক কর্মচারী এবং আমিও বার্ন ইউনিটে ডেইলি বেসিক কর্মচারী হিসেবে চাকরি করি। আমার স্বামী ইয়াবা ও গাজা সেবন করতেন। গত রাতে তিনি বাথরুমে বসে ইয়াবা-গাজা সেবন করেন, এ কারণে গন্ধে ঘরে থাকতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, যে বাসায় থাকি, সেটার ভাড়া ৩ হাজার টাকা। বাসার ভাড়া দেওয়ার জন্য আমার কাছে ১ হাজার ৫০০ টাকা ছিল। সকালে যখন ওয়ারড্রোব খুলে ওই টাকা দিতে যাই, তখন দেখি সেখানে টাকাগুলো নেই। তখন আমি সুমনকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রথম অস্বীকার যান। তবে পরে তিনি বলেন, ‘আমি ওই টাকাগুলো নিয়েছি, পরে ফেরত দিয়ে দেব।’ এই নিয়ে আমাদের দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এরপর তিনি আমাকে থাপ্পড় মারতে থাকেন। এ ছাড়াও, হাতে থাকা কলম জাতীয় একটি জিনিস দিয়ে আমার বাঁ হাতে তিনি আঘাত করেন এবং পিঠে কামড় বসিয়ে দেন। ধস্তাধস্তির এক একপর্যায়ে দেখতে পাই, তার বুকের বাঁ পাশ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। পরে আমি আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি এবং চিৎকার করতে থাকি। পরে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সুমন আর বেঁচে নেই।
নাসিমা আরও জানান, আমি তার সঙ্গে যেভাবে সংসার করছি, এভাবে কোনো মানুষ সংসার করতে পারে না। তিনি আমাকে প্রায়ই মারতেন। ধস্তাধস্তির কোনো একসময় ঘটনাটি ঘটেছে নাকি তিনি নিজেই কলমের মতো বস্তুটি নিজের বুকে ঢুকিয়ে দিয়েছেন, তা দেখতে পাইনি। তিনি বলেন, আমি যদি হত্যা করতাম, তাহলে আমি আমার ২১ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যেতাম; তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসতাম না। আমি সুমনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তার প্রথম স্ত্রীর লোকজন আমাকে মারধর করেন। আমার তো আর কিছুই রইল না!
অপরদিকে ঢামেক হাসপাতালে নিহতের প্রথম স্ত্রী ডলি আক্তার জানান, সুমন মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকসেবন ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে সুমন ও নাসিমার মধ্যে কলহ চলছিল। তাই সুমনকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন ডলি আক্তার। ডলি আক্তারও একই এলাকার অন্য একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।
বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজান জানান, আমরা খবর পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে এসেছি। নিহত সুমনের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমাকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। মহিলা পুলিশ এলে নাসিমাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে।
Related News :

যাত্রাবাড়ীতে মাদক অভিযানে এসআরবির ওপর হামলা, ২৬ জন কারাগারে

রাজধানীর পল্লবী-রূপনগর এলাকার সন্ত্রাসী গ্রুপের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৩৫৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ

ফিঙ্গার প্রিন্ট জাল করে সিম নিবন্ধন, চক্রের হোতাসহ আটক ৩

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের অভিযানে গ্রেফতার ৬৬

যাত্রাবাড়ীতে ৩৫ লাখ টাকার জালনোটসহ দুই পেশাদার জালনোট কারবারি গ্রেফতার করেছে ডিবি

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে হত্যা মামলার ২ আসামি গ্রেফতার

রাজধানীতে স্ত্রীর গলা কেটে খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে স্বামী পলাতক

রাজধানীতে শিক্ষিকা হত্যা মামলার ২ আসামি গ্রেপ্তার


