ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর-২০২৬
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : কাজী সব্যসাচী তার স্বল্পায়ু জীবনে আবৃত্তি ও উচ্চারণ শিল্পকে আধুনিক ও নান্দনিক শিল্পকলার মর্যাদায় উন্নীত করেছিলেন। বিশেষ করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তিনি বাংলা আবৃত্তিশিল্পে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। কবিতাকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে আবৃত্তিকে প্রতিষ্ঠিত করতেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার হলে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘কাজী সব্যসাচী : আধুনিক নজরুল আবৃত্তির প্রাণপুরুষ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবৃত্তিশিল্পী ও আইনজীবী নাসিম আহমেদ। আলোচনায় অংশ নেন সংগীতশিল্পী, সংগঠক ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য খিলখিল কাজী এবং আবৃত্তি গবেষক ও বাচিকশিল্পী নিমাই মণ্ডল। বাংলা একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজা স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
প্রবন্ধে নাসিম আহমেদ বলেন, কাজী সব্যসাচী তার স্বল্পায়ু জীবনে আবৃত্তি ও উচ্চারণ শিল্পকে আধুনিক ও নান্দনিক শিল্পকলার মর্যাদায় উন্নীত করেছিলেন। তার কণ্ঠস্বর ছিল ভরাট, পৌরুষদীপ্ত, মেঘগম্ভীর ও মধুময়। আধুনিক আবৃত্তিশিল্পের অনুসরণযোগ্য প্রধান পুরুষ হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি বলেন, শুধু নজরুলের কবিতা নয়, অন্যান্য কবির কবিতাও সব্যসাচী অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে আবৃত্তি করেছেন। নজরুলের কবিতার আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও অন্যান্য কবির কবিতা আবৃত্তিতেও তার দক্ষতা ছিল ঈর্ষণীয়। আবৃত্তিশিল্পকে তিনি মধ্যবিত্তের ঘর থেকে মাঠে-ময়দানে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
নাসিম আহমেদ বলেন, নজরুল-আবৃত্তির প্রাণপুরুষ কাজী সব্যসাচী উচ্চারণ, আবৃত্তি ও ধ্বনিশিল্পের জগতে আধুনিক আবৃত্তিশিল্পের উদ্গাতা হিসেবে বহুকাল দীপ্যমান থাকবেন। একই সঙ্গে নজরুল-সাহিত্যের নান্দনিক ধ্বনিমাধুর্যের প্রচারক হিসেবেও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
খিলখিল কাজী বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি তাঁর বাবা কাজী সব্যসাচীর কবিতা আবৃত্তি শুনে বড় হয়েছেন। তার দাদা কাজী নজরুল ইসলামের সামনে সব্যসাচী কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং নজরুল নীরবে তা শুনতেন। বাংলাদেশে আসার পর নজরুল একটি সুন্দর বাড়িতে থাকতেন, যেখানে বড় একটি বাগান ছিল। ফুল খুব ভালোবাসতেন নজরুল।
মাঝেমধ্যে তার মা তাকে নিয়ে সেই বাগানে যেতেন। কখনো নজরুলও একা বাগানে গিয়ে ফুলগাছের পাশে বসে বিড়বিড় করে কী যেন বলতেন। তিনি বলেন, আবৃত্তিকে ভালোবেসে একজন মানুষ কতটা জনপ্রিয় হতে পারেন, কাজী সব্যসাচী তার উদাহরণ। আবৃত্তির মাধ্যমে তিনি মানুষের মন জয় করেছেন এবং এই শিল্পকে মানুষের হৃদয়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। আবৃত্তিকে পেশা হিসেবে নেওয়া যায় তিনি তা দেখিয়ে গেছেন।
খিলখিল কাজী বলেন, তার বাবা খুব ভালো আবৃত্তি করতেন। কলকাতায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই তার দাদা কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করার জন্য সব্যসাচীকে অনুরোধ করেছিলেন। এ ধরনের অনেক স্মৃতি রয়েছে।
ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা, প্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার শক্তিশালী প্রকাশ। তার কবিতার ভাষা যেমন তেজোদ্দীপ্ত, তেমনি এর ছন্দ, ধ্বনি ও শব্দবিন্যাস আবৃত্তির জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে নজরুলের কবিতার বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে কাজী সব্যসাচী আবৃত্তিকে উপস্থাপন করেছেন। শৈশব থেকেই তিনি নজরুলের কবিতাকে আত্মস্থ করেছিলেন। নজরুলের কবিতার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সব্যসাচীর আবৃত্তির একটি সৃজনশীল সংযোগ তৈরি হয়েছিল।
Related News :

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বাংলা একাডেমির সেমিনার আগামীকাল

চাঁদপুরে সাত লেখক-শিল্পী পেলেন চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি দোনাগাজী পদক

'অনুপ্রাস' জাতীয় কবি সংগঠনের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উদযাপন করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী

বাংলা একাডেমিতে গাজী শামছুর রহমান স্মারক বক্তৃতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত

'অনুপ্রাস' জাতীয় কবি সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটি ঘোষণা

জাতীয় কবি নজরুলের বিদ্রোহ, বিপ্লব, মানবিকতা ও নান্দনিক সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা

কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

চাঁদপুরে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পাচ্ছেন ৬ লেখক


