ঢাকা, ১০ এপ্রিল-২০২৬
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদ আজ ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাস করেছে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান আইন আধুনিকায়ন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বিলটি সংসদে উত্থাপন ও পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটিতে ২০২২ সালের জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধন করে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’-দের পাশাপাশি ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’দের আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রেণিভুক্ত ও সম্মান জানানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলটিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষণ এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এবং দেশ-বিদেশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদানকারীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক পার্থক্য নির্ধারণ।
খসড়া অনুযায়ী, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে তাদেরই গণ্য করা হবে যারা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন বা সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এ শ্রেণিতে নির্যাতিত নারী (বীরাঙ্গনা) এবং ফিল্ড হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসাকর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
বিলে বলা হয়েছে, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ বলতে বোঝাবে-যারা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রাম ও শহরে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং যারা বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যোগদান করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ও তাদের দেশীয় সহযোগী যেমন রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে, ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ বলতে বোঝানো হয়েছে—যারা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশ বা বিদেশে অবস্থান করে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করা, যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করা, সংগঠকের ভূমিকা পালন, বিশ্বজনমত গঠন, কূটনৈতিক সমর্থন অর্জন এবং মনোবল বৃদ্ধি করার কাজে অবদান রেখেছেন।
আরো পড়ুন : আবু সাঈদ হত্যা মামলা : ২ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড, ২৭ জনের কারাদণ্ড
বিলে কাউন্সিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ‘জামুকা ফান্ড’ নামে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যা সরকারি অনুদান, বেসরকারি দান এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এই তহবিল সরকারের পাবলিক অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থার আওতায় একটি পার্সোনাল লেজার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ঋণ গ্রহণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিলে জামুকাকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে, মুক্তিযোদ্ধা-সম্পর্কিত কোনো সংগঠনের নির্বাহী কমিটি বাতিল বা ভেঙে দেওয়া হলে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ বা ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করতে পারবে। বিলের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ২০০২ ও ২০২২ সালের আইনগুলো মূলত তালিকাভুক্তি ও কল্যাণমূলক বিষয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল। তবে ২০২৬ সালের এই সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অটুট রাখা এবং যুদ্ধজয়ে সহায়ক ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের পৃথক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই বিলটি ২০২৫ সালের জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশের ধারাবাহিকতায় আনা হয়েছে, যা পাস হওয়ার পর নতুন আইনের মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হবে।
বিলের বিরোধিতা করে জামায়াতে ইসলামী’র আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সংজ্ঞাগুলো স্বাধীনতার পরবর্তী সরকার বা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আমলে প্রবর্তিত হয়নি; বরং এগুলো পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুক্ত হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, এনসিপির এ বিলের প্রতি কোনো আপত্তি নেই এবং বিলটি বিবেচনার জন্য সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর তিনি বিলটি ভোটে দেন এবং কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
Related News :

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

মোংলা বন্দর, সুন্দরবন ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সেনাবাহিনীর ৭টি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড 'জাতীয় পতাকা' প্রদান অনুষ্ঠিত

দুর্গাপূজায় উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

হাইতিতে গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্সে (GSF) অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী দলের বাংলাদেশ ...

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বঙ্গোপসাগরে টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশে বিমরাডের কর্মশালা অনুষ্ঠিত


